চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানির পশুর হাট বসছে সোমবার

চট্টগ্রাম, ১১ জুলাই- চট্রগ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামীকাল সোমবার (১২ জুলাই) থেকে কোরবানির পশুর হাটে শুরু হবে বেচাকেনা।
তবে করোনাভাইরাসের ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের মধ্যে অনলাইন অথবা পাড়ায় পাড়ায় কোরবানির পশুর হাটকে অধিকতর নিরাপদ মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং সচেতন জনগোষ্ঠী। তারা বলছেন, এতে লকডাউন ভেঙে ক্রেতাকে যেমন দূরে পশুর হাটে যেতে হবে না, তেমনি বেশি জনসমাগম বা লোকজনের ভিড় এড়ানোও সম্ভব হবে।
বাকলিয়া, বহদ্দারহাট ও চকবাজারে তিনটি সীমিত গরুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, এরই মধ্যে কিছু কিছু বেচাকেনা শুরু হয়েছে। এসব স্থানে রাখা গরুর মালিকেরা বলেছেন, দিনে কয়েকজন করে ক্রেতা আসেন। দরদামে মিলে গেলে গরু নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ দাম পরিশোধ করে দিয়ে গরু তাদের তাঁবুতে রেখে দিচ্ছেন।
ব্যাবসায়ীরা জানিয়েছেন, সচেতন মানুষ এখন ভিড় এড়িয়ে চলতে চান। তাই আগেভাগে আমাদের মতো কম গরুর তাঁবুতে আসছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পাড়ার হাটে পশুর বেচাবিক্রি বেশি বলে মনে হচ্ছে। তবে, এসব কোরবানিদাতাদের বড় গরুর দিকে ঝোঁক কমেছে।
সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন কোরবানি উপলক্ষে এবার নগরীতে বসবে ছয়টি পশুর হাট। তিনটি স্থায়ী এবং তিনটি অস্থায়ী। এরই মধ্যে হাটগুলোতে ইজারাদার নিয়োগ দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। আগামীকাল থেকে এসব হাটে শুরু হবে বেচাকেনা। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, হাটে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইজারাদারেরা এরই মধ্যে বাজারগুলোতে পশু বেচাকেনার জন্য প্রস্তুতও করে তুলেছেন।
প্রতিবছর নগরীতে অন্তত সাতটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর জন্য অনুমতি দিলেও প্রশাসন এবার দিয়েছে তিনটি। যদিও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জেলা করোনা প্রতিরোধ সমন্বয় কমিটির বৈঠকে করোনার প্রকোপ বিবেচনায় আরও বেশি স্থানে পশু বেচাকেনার অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।
সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কোরবানির পশুর হাট বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছিলাম আমরা। হাট যত বেশি হবে, মানুষের ভিড় তত কম হওয়ার কথা। এ ছাড়া অনলাইনে কোরবানির পশু বেচাকেনার উদ্যোগ নিলে খুবই ইতিবাচক হতো। এতে শারীরিক দূরত্ব মানা যেতো।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় ঝুঁকি বাড়বে। গত রমজানের সময় স্বাস্থ্য বিভাগের আশঙ্কার বিষয়টি সাধারণ মানুষকে বোঝানো যায়নি। ফলে এখন আমাদের এর চরম মাশুল দিতে হচ্ছে। ঈদুল আজহায়ও যদি হাটে বেশি ভিড় হয়, তাহলে করোনাভাইরাস আরও বেশি ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এ অবস্থায় হাটে যত বেশি স্বাস্থ্যবিধি মানানো যাবে, তত মঙ্গল। পাশাপাশি হাটের বাইরে এক বা একাধিক ডিসপ্লে বোর্ড দেওয়া যেতে পারে যেখানে পুরো হাটের একটি সামগ্রিক চিত্র থাকবে।
কোন স্থানে কত বাজেটের পশু রাখা হয়েছে, এ বোর্ড থেকে ক্রেতারা জানতে পারবে এবং সর্বত্র ঘোরাঘুরির বদলে ওই নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে ক্রেতারা পছন্দের ও বাজেটের পশু কিনে নিতে পারবে। এভাবে কিছু নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে ভিড় এড়ানো সম্ভব হবে।
সিএমপির মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আরাফাতুল ইসলাম বলেছেন, চসিকের পক্ষ থেকে ছয়টি অনুমোদন দেয়া হলেও এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবার কয়টি পশুর হাট বসবে। হাটের সংখ্যা বাড়বে নাকি পাড়া-মহল্লায় সীমিত পরিসরে হবে পশুর হাট সে বিষয়ে লকডাউনের পরে সিদ্ধান্ত হবে।
সুত্রঃ আরটিভি
আর আই









