চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল নিয়ে নৌ মন্ত্রণালয়ের দুই ভিন্নমুখী চিঠিতে বিতর্ক

চট্টগ্রাম, ৭ জুন – চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একই দিনে একই স্মারক নম্বর ব্যবহার করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা দুটি পৃথক চিঠির কারণে বন্দর সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা প্রশ্নের উদয় হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন এক অধিশাখা থেকে এই চিঠিগুলো জারি করা হয়। একটি চিঠিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চলমান আলোচনা এগিয়ে নেওয়া অথবা অনাগ্রহ থাকলে প্রক্রিয়াটি বাতিলের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অপর চিঠিতে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আলোচনা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এই দ্বিমুখী অবস্থানের পর বন্দর শ্রমিক ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শ্রমিক নেতাদের দাবি অনুযায়ী তারা বিদেশি বিনিয়োগের বিরোধী নন। তবে সচল ও লাভজনক কোনো টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া তারা মেনে নেবেন না।
উল্লেখ্য যে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল বা বে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের কোনো আপত্তি ছিল না। এর কারণ হিসেবে তারা জানান ওই টার্মিনালগুলোতে বন্দরের নিজস্ব আধুনিক যন্ত্রপাতি ছিল না। কিন্তু এনসিটি একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপট।
এই টার্মিনালটি বর্তমানে বন্দরের নিজস্ব সরঞ্জাম ও জনবল দিয়ে অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশই সম্পন্ন হয় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে। বন্দরের হাতে থাকা মোট ১৮টি কি গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই এই টার্মিনালে কাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অপারেটরের হাতে গেলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রমের একটি বিশাল অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন এই বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন এনসিটি বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণ আয় করছে এবং দেশীয় ব্যবস্থাপনায় এটি সফল। তাই এই টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তরের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
এর আগে উচ্চ আদালতে এই প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে সরকার সিদ্ধান্তটি স্থগিত রেখেছিল। তবে সাম্প্রতিক এই দুই চিঠি পরিস্থিতিকে পুনরায় জটিল করে তুলেছে।
এস এম/ ৭ জুন ২০২৬









