শিলিগুড়ি ‘দখল’ নিতে মমতা চিন্তায়, পাহাড়ে খোস মেজাজে ‘বন্ধু’ গুরুং

শিলিগুড়ি, ০৭ মার্চ – জয় গোর্খালি….পাহাড় জুড়ে শোনা যাচ্ছে গোজমুমো নেতার হুঙ্কার। এখনও বেশ ঠাণ্ডা দার্জিলিং পার্বত্যাঞ্চলে। অপর জেলা কালিম্পংয়েও শীত। তবে পাহাড়ি এলাকার গোর্খা রাজনীতি গরম হয়েই থাকছে।
রবিবার দার্জিলিং জেলাতেই মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিলিন্ডার মিছিল ও জনসভা। শিলিগুড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। যে বিধানসভায় সিপিআইএমের নেতা ও বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্যের দাপট সেখানেই তৃণমূল নেত্রীর মিছিল ঘিরে টানটান পরিস্থিতি।
আর জেলার পাহাড়ি এলাকায় খোস মেজাজে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার (গোজমুমো) নেতা বিমল গুরুং। তিনি নারী মোর্চার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। কবিতা শুনছেন। দার্জিলিং, কার্সিয়াং, মিরিক সর্বত্রই মোর্চার গুরুং শিবিরের দাপট লক্ষ্যনীয়। প্রতিদ্বন্দ্বী মোর্চার বিনয় তামাং গোষ্ঠী তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে এমনই দাবি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের।
তবে গত ডিসেম্বরে যখন বিমল গুরুং ফের তৃণমূল নেত্রীর ‘বন্ধু’ হয়ে বিজেপির সখ্যতা ছেড়ে দার্জিলিং ফিরলেন সেদিন চকবাজার থেকেই তাঁর হুঁশিয়ারি ছিল, ১৫ দিনের মধ্যে তামাং গোষ্ঠীকে বশ্যতায় আনব। প্রবল আস্ফালনে বিমল গুরুং জনসভা থেকে বিরোধী গোষ্ঠীকে সাবধান করেন গুরুং।
আরও পড়ুন : পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড়ে সামিল হতে পারে ২০ লাখ নেতা-কর্মী
তবে মমতার বন্ধুত্ব ছেড়ে আসা বিনয় তামাং গোষ্ঠীও পাল্টা জনসভা করে কার্সিয়াংয়ে। তাতেও ভিড় বিরাট আকার নিয়েছিল। তামাং এখন বিজেপি ঘেঁষা। আর রাজ্য সরকারের দায়ের করা একগুচ্ছ মামলা থেকে রেহাই পেয়ে গুরুং তৃণমূল কংগ্রেসের শরিক।
এমনই পরিস্থিতির মাঝে তৃণমূল নেত্রী কলকাতায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানের প্রথমেই জানান, বন্ধু দলকে পাহাড়ের তিন আসন ছেড়ে দিয়েছি। এতেই উল্লসিত হয় গুরুং শিবির। যদিও গোজমুমো গুরুং গোষ্ঠী তাদের প্রার্থী জানায়নি।
শিলিগুড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভাতে উত্তরবঙ্গের নেতৃত্ব ও হেভিওয়েট বিধায়করা থাকবেন। ব্যবধান ঘুচিয়ে দুই হেভিওয়েট নেতা ও মন্ত্রী গৌতম দেব এবং রবীন্দ্রনাথ ঘোষ কি পাশাপাশি হাঁটবেন? প্রশ্ন উঠছেই। পরিস্থিতি জটিল হয়েছে শিলিগুড়ি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ওমপ্রকাশ মিশ্র কে প্রার্থী করায়। তিনি ‘বহিরাগত’ বলে তৃণমূলেরই একাংশ ক্ষুব্ধ। কলকাতার বাসিন্দা ওমপ্রকাশ বাবু। ফলে শিলিগুড়ির তৃণমূল নেতৃত্বের বড় অংশ প্রার্থী নিয়ে অখুশি। প্রার্থী জটিলতা দূর করতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভূমিকা নেবেন।
শোনা যাচ্ছে তাঁর বার্তা থাকবে দার্জিলিং জেলার পাহাড়ি তিনটি আসন দার্জিলি, কার্সিয়াং ও কালিম্পং জেলায় বন্ধু দল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতি। প্রার্থী ঘোষণার দিন এই তিনটি আসন সবার আগে ছেড়ে দেন তৃণমূল নেত্রী।
সূত্র : কলকাতা২৪x৭
এন এ/ ০৭ মার্চ









