আমেরিকার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের ‘প্রস্তুত’ থাকার হুশিয়ারি দিল ইরান

তেহরান, ০৮ নভেম্বর – যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান থেকে এল এক চাঞ্চল্যকর ও কঠোর বার্তা। দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকেরা যদি নির্দেশ দেন, তবে নিজেদের বহুল আলোচিত ‘পারমাণবিক নীতি’ (নিউক্লিয়ার ডকট্রিন) পরিবর্তন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আর এই নীতি বদলের নির্দেশ এলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সামরিক প্রস্তুতিও নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে তারা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এক সংবাদ সম্মেলনে এই সতর্কবার্তা দেন। দেশটির সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স’-এর বরাท দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
মোহেব্বির সতর্কবার্তা ও আইআরজিসির অবস্থান
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি জোর দিয়ে বলেন যে, পারমাণবিক নীতিতে যেকোনো ধরনের পরিবর্তন বা সংশোধনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। যদি দেশের নীতিনির্ধারকেরা নীতি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেন, তবে তার পেছনে প্রয়োজনীয় সামরিক প্রস্তুতি নিতে বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
তবে মোহেব্বির এই বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে, ইরান তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী দীর্ঘদিনের অবস্থান বা নীতি থেকে সরে আসার চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা দিয়েছে। তিনি নিজে সরাসরি নীতি পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেননি এবং তেহরানের সংশোধিত পারমাণবিক নীতি ঠিক কেমন হতে পারে, সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানাননি। বরং তার এই বক্তব্য মূলত সম্ভাব্য নীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর আগাম প্রস্তুতির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মহসেন রেজাঈর বক্তব্যের ধারাবাহিকতা
এর আগে গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মহসেন রেজাঈ জানিয়েছিলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা দেশের পারমাণবিক নীতিতে কিছু পরিবর্তন আনার কথা தீவிரভাবে চিন্তা করছেন। শনিবার আইআরজিসির মুখপাত্র মোহেব্বির বক্তব্যটি মূলত মহসেন রেজাঈর সেই পূর্বের কথারই ধারাবাহিকতা ও প্রতিধ্বনি। তবে রেজাঈ ও মোহেব্বি উভয়েই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত বা অপরিবর্তনীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।
তেহরানের দীর্ঘদিনের অবস্থান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ইরান বিগত বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক মহলে একটাই দাবি করে আসছে যে—তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে (যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহার) পরিচালিত হচ্ছে এবং তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না।
ফলশ্রুতিতে, আইআরজিসির এই নতুন সতর্কবার্তাটি মূলত সম্ভাব্য নীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি সামরিক প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক চাপের কৌশল বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। বাস্তবে তেহরান তাদের পারমাণবিক নীতি পুরোপুরি বদলে ফেলেছে—এমন কোনো চূড়ান্ত নিশ্চয়তা এতে নেই, তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার পারদ যে আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।
এনএন/ ০৮ নভেম্বর ২০২৬







