ইউরোপ

পোল্যান্ডে রাশিয়াকে অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহের অভিযোগে ৬ জন গ্রেফতার

৬ জন গ্রেফতার

ওয়ারশ,০৬ নভেম্বর-রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র ও প্রযুক্তি সরবরাহ এবং মস্কোর হয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর অভিযোগে পোল্যান্ডে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে কিয়েভের অন্যতম প্রধান সমর্থক দেশ পোল্যান্ড বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পোল্যান্ডের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পণ্য ও প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পোল্যান্ডের স্পেশাল সার্ভিসেসের সমন্বয়কারী তোমাশ শিমোনিয়াক তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ থেকে ৫২ বছর বয়সী পাঁচজন পোলিশ নাগরিক এবং ৩৭ বছর বয়সী একজন রুশ নাগরিক রয়েছেন। পোল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা (এবিডব্লিউ) জানিয়েছে, রুশ নাগরিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে সরাসরি গোয়েন্দা তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের তিন মাসের জন্য বিচার শুরুর আগ পর্যন্ত আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি অবৈধভাবে রাশিয়ায় বিপুল পরিমাণ সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছিল। এসব সরঞ্জাম মূলত গোলাবারুদ ও অস্ত্রব্যবস্থা তৈরিতে ব্যবহৃত হতো।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং জোটের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে অবস্থিত পোল্যান্ড ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর থেকেই মস্কোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে আসছে। ইউক্রেনে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পোল্যান্ডের ভূখণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্ক জানিয়েছেন, রাশিয়ার সীমান্তসংলগ্ন কালিনিনগ্রাদ এলাকায় এক রাতে সম্ভাব্য একটি উসকানিমূলক তৎপরতা ব্যর্থ করে দিয়েছে পোলিশ নিরাপত্তা বাহিনী।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রটি ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া ও রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত ছিল। চক্রের সদস্যরা অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ অর্ডার দিয়ে কিনত, সেগুলো সংগ্রহ করত এবং সীমান্ত পার করে রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলে নিয়ে যেত। এসব মালামাল পরিবহনের জন্য তারা বিশেষভাবে গোপন কুঠুরি তৈরি করা যানবাহন ব্যবহার করত। এভাবে একাধিকবার পোল্যান্ড-রাশিয়া সীমান্ত পারাপার করেছে তারা। তবে কয়েকবার পোলিশ সীমান্তরক্ষীদের হাতে কিছু সরঞ্জাম ধরা পড়ে।

অবৈধভাবে পাচার করা এসব সরঞ্জামের মধ্যে মূলত গোলাবারুদের বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ ছিল। এর মধ্যে শেলের খোলস ও প্রজেক্টাইলও অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ায় কেনা এবং পাচার করা এসব সামরিক সরঞ্জামের মোট মূল্য ২০ লাখ পোলিশ জ্লোটি, যা প্রায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৪৩০ ইউরোর বেশি।

গোয়েন্দাবৃত্তির অভিযোগের পাশাপাশি গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে পোল্যান্ডের জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করার গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক চক্রের কার্যক্রমের পুরো চিত্র ও বিস্তার জানতে এবিডব্লিউ ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। শিমোনিয়াকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারির পর থেকে এখন পর্যন্ত এবিডব্লিউর পরিচালিত বিভিন্ন গোয়েন্দাবৃত্তি ও নাশকতাবিরোধী তদন্তে প্রায় ১০০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

এস এম/ ০৬ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language