২ বছর পর ক্ষমতা ছাড়বেন নেতানিয়াহু! আইজেনকটকে ক্ষমতা ভাগাভাগির বড় প্রস্তাব

তেল আবিব, ০১ নভেম্বর – ইসরায়েলের কনেসেট (সংসদের) নির্বাচনের পর কোনো দল বা জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জেরুজালেমের রাজনীতির অন্দরমহলে জটিল সমীকরণ তৈরির খেলা জমজমাট রূপ নিয়েছে। জোট গঠন ও সরকার গড়ার এই তীব্র টানাটানির মাঝেই উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর সমঝোতার খবর।
দেশটির জনপ্রিয় গণমাধ্যম চ্যানেল ১৪ (Channel 14)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেপ্রিম নেতানিয়াহু এবং বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতা গাদি আইজেনকটের (Gadi Eisenkot) মধ্যে এক যৌথ সরকার গঠন ও ক্ষমতা ভাগাভাগির (Power-sharing deal) প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সমীকরণের মূল প্রস্তাবনা ও ট্রাম্প ফ্যাক্টর
চ্যানেল ১৪-এর খবর অনুযায়ী, প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে:
প্রথম ২ বছর নেতানিয়াহু: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের সাথে তাল মিলিয়ে এবং মার্কিন প্রশাসনের সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুবিধার্থে প্রথম দুই বছর প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে থাকবেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
পরের ২ বছর আইজেনকট: দুই বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর নেতানিয়াহু পূর্ণ রাজনৈতিক অবসর গ্রহণ করবেন এবং বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ (Isaac Herzog) গত দুই বছর ধরে নেপথ্যে থেকে এই আবর্তিত সরকার (Rotational Government) গঠনের মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
‘সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও বানোয়াট’ বলল প্রেসিডেন্টের দপ্তর
তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ পাওয়ার পরই প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে এক জরুরি বিবৃতি জারি করে এই খবরের সরাসরি বিরোধিতা করা হয়েছে।
আইজ্যাক হারজোগের দপ্তরের মুখপাত্র পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, “চ্যানেল ১৪-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। প্রেসিডেন্ট হারজোগ ক্ষমতার এমন কোনো ভাগাভাগি বা সমঝোতার প্রস্তাবে মধ্যস্থতা করছেন না। এটি অনভিপ্রেত কল্পনা মাত্র।”
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় আরও যোগ করে যে, আগামী ৪ নভেম্বর (বুধবার) নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ও চূড়ান্ত ফলাফল রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করার আগে সরকার গঠনের দায়িত্বে কাকে দেওয়া হবে তা নিয়ে কোনো আগাম প্রক্রিয়া শুরু হবে না। ফলাফল হাতে পাওয়ার পরই কেবল আইন অনুযায়ী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করবেন হারজোগ।
কনেসেটের আসন সংখ্যা ও জটিলতার চিত্র
৮৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে ১২০ আসনের কনেসেটে সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কোন জোটে নেই:
নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট (Likud & Allies): ৫৩টি আসন, ৮টি আসন কম (সংখ্যাগরিষ্ঠতাহীন)
গাদি আইজেনকটের বিরোধী জোট: ৪৮টি আসন, একা সরকার গড়তে অক্ষম
আরব-নেতৃত্বাধীন দলসমূহ: ১৯টি আসন, নির্ণায়ক বা ‘কিংমেকার’ অবস্থান
সেনাসদস্য, কারাবন্দি ও বিদেশে থাকা নাগরিকদের পোস্টাল ব্যালট এবং বিশেষ ভোট গণনা এখনো বাকি থাকায় চূড়ান্ত আসন তালিকায় সামান্য রদবদল ঘটতে পারে। তবে আপাতত ইসরায়েলি রাজনীতির ভাগ্য কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, তা চূড়ান্ত ফলাফল ও রাষ্ট্রপতি হারজোগের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।
এনএন/ ০১ নভেম্বর ২০২৬







