জাতীয়

আমার ভাইকে মার্ডার করা হয়েছে: বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার রহস্যমৃত্যু নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

ঢাকা, ২৯ অক্টোবর – রাজধানীর উত্তরা থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি (২৮)-এর মৃত্যুকে একটি পূর্বপরিকল্পিত ‘হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করেছেন তাঁর খালাতো বোন মোশফেকা জাহান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন ও ক্ষোভভরা স্ট্যাটাসে তিনি এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী ফাঁড়ির নৌপুলিশ তুরাগের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন নদী থেকে তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর থেকেই তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে নানা রহস্য ও রাজনৈতিক আলোচনার ডালপালা মেলতে শুরু করেছে।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে মোশফেকা জাহানের বিস্ফোরক অভিযোগ:

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তাহসিফের খালাতো বোন মোশফেকা জাহান দাবি করেন, সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে। তাঁর আনা মূল অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:

ভিডিও শেয়ারের জেরে হয়রানি: স্ট্যাটাসে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার অপরাধে তাহসিফকে দিনের পর দিন মানসিক যন্ত্রণা ও চাপ দেওয়া হয়েছিল।

গোয়েন্দাদের নজরদারি: চাকরি থেকে অবসরে পাঠানোর পরও গোয়েন্দারা নিয়মিত তাঁকে অনুসরণ করতেন এবং নানাভাবে হয়রানি করতেন বলে তাহসিফ তাঁর পরিবারকে জানিয়েছিলেন।

পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড: মোশফেকা জাহান প্রশ্ন রেখে বলেন, সুস্থ-সবল তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর খালার জুলাই আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকার বিষয়টিও এই আক্রোশের কারণ হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

আইএসপিআর ও পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য:

আইএসপিআরের বক্তব্য: এর আগে গত বছরের ৪ আগস্ট আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল যে, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফকে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনেই কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই অবসর দেওয়া হয়েছিল।

মরদেহ উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্ত: গত বুধবার বিকেলে ৯৯৯-এ কল পেয়ে টঙ্গী নৌপুলিশ তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, তাঁর পরনে ছিল সাদা পাজামা ও কালো জামা। তাঁর পকেটে পাওয়া আইফোন এবং হাতের ঘড়ি দেখে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

ময়নাতদন্ত: সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহটি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ (হত্যাকাণ্ড, পানিতে ডুবে মৃত্যু নাকি অন্য কিছু) ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এনএন/ ২৯ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language