শিক্ষা

ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে তুমুল বিতর্ক: ছাপা বন্ধ ও বই সংগ্রহের নির্দেশ এনসিটিবির

ঢাকা, ২৩ অক্টোবর – ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ (আইসিটি) পাঠ্যবইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের পরিবর্তে ‘দাঁড়িপাল্লার’ ছবি ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। একই সাথে মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো ফিরিয়ে এনে প্রতীক পরিবর্তনের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুনরায় বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে এনসিটিবির পক্ষ থেকে বইটির মুদ্রণ কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার জরুরি নির্দেশ জারি করা হয়।

পিরামিডে প্রজ্ঞার প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ও রাজনৈতিক বিতর্ক

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে ‘জ্ঞানের পিরামিড’-এর ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। এই পিরামিডটিতে নিচ থেকে ওপরে মোট চারটি স্তর রয়েছে:

  • উপাত্ত: পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো বৃত্তাকার প্রতীক।
  • তথ্য: পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে প্রতীক।
  • জ্ঞান: মানুষের মস্তিষ্কের ছবি।
  • প্রজ্ঞা: সর্বোচ্চ স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘দাঁড়িপাল্লার’ ছবি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিটিবির এক কর্মকর্তা জানান, দাঁড়িপাল্লা মূলত একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতীক। পাঠ্যবইয়ে প্রজ্ঞার চিহ্ন হিসেবে এই প্রতীকের অন্তর্ভুক্তির ফলে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় এনসিটিবি তা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার পর ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার ছবি রাখা হয়েছিল। তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে (২০২৬) শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ছিল। কিন্তু ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরিয়ে আনায় এই বিতর্কের জন্ম হয়।

৩৮ লাখ কপি বই ছাপা ও সময়মতো বিতরণ নিয়ে সংশয়

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির এই আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে, যার বেশির ভাগই ইতোমধ্যে ছাপা ও বাঁধাই হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে।

তবে প্রিন্টিং প্রেস মালিকরা জানান, বইটির ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এখন মাঠপর্যায় থেকে বিতরণকৃত বই সংগ্রহ করে তা সংশোধন করতে অতিরিক্ত সময় ও বিপুল অর্থ ব্যয় হবে। এমনিতেই মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির বই ছাপার কাজ ধীরগতিতে চলছে, তার ওপর এই পরিমার্জন প্রক্রিয়া যুক্ত হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানো ব্যাহত হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

সংশোধন উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীকটি পরিমার্জনের পর আবার শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করা হবে। আপাতত ছাপার কাজ বন্ধ রাখা এবং মাঠে চলে যাওয়া বই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ভুল বা বিতর্কিত তথ্য না পায়, সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।”

এনএন/ ২৩ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language