কথা দিয়েও কথা রাখেননি কোহলি: বিরাট কোহলির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ অমিত মিশ্রের

নয়াদিল্লি, ২৩ অক্টোবর – ভারতের জার্সিতে ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচটিই ছিল অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার অমিত মিশ্রের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। সেদিন যদি তিনি ইনজুরির শিকার না হতেন, তবে জাতীয় দলের হয়ে আরও অনেক বেশি ম্যাচ খেলতে পারতেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস তাঁর। তবে তৎকালীন প্রধান কোচ অনিল কুম্বলে ও অধিনায়ক বিরাট কোহলির মিথ্যা আশ্বাস এবং পরবর্তীতে চরম উপেক্ষার শিকার হয়ে অত্যন্ত তিক্ত এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ হয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন এই সাবেক ভারতীয় স্পিনার।
সম্প্রতি আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচিং স্টাফে যুক্ত হওয়া অমিত মিশ্র সংবাদমাধ্যমে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ দিকের এই বঞ্চনার পেছনের গল্প প্রকাশ করেছেন।
ইনজুরির পর কোহলি ও কুম্বলের কাছ থেকে মিলেছিল ফেরার সবুজ সংকেত
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অমিত মিশ্র জানান, ২০১৭ সালে বেঙ্গালুরুতে খেলার সময় তার পায়ে গুরুতর চোট লেগেছিল। ওই সময় দল থেকে ছিটকে যাওয়ার মুহূর্তে তৎকালীন কোচ অনিল কুম্বলে এবং অধিনায়ক বিরাট কোহলি তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন।
অমিত মিশ্রের ভাষ্যমতে, “বেঙ্গালুরুতে ওই সময় আমি আমার পায়ে চোট পেয়েছিলাম। ইনজুরির পর যখন দল থেকে চলে গেলাম, তখন অনিল কুম্বলে কোচ ছিলেন। আমি অনিল ভাইকে বলেছিলাম… তিনি তখন আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, ‘চিন্তা করো না। তুমি ফিট হলেই আবার দলে ফিরে আসবে।’”
তিনি আরও যোগ করেন, “এরপর ওই সময়ের অধিনায়ক বিরাট কোহলির কাছেও জানতে চেয়েছিলাম, ‘ভাই, আমার এখন কী করা উচিত?’ জবাবে সে বলেছিল, ‘কোনো চিন্তা করো না। তুমি পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠো, তুমি ঠিকই দলে থাকবে।’”
ফিটনেস ফিরে পাওয়ার পর কোহলির চরম লুকোচুরি ও উপেক্ষার শিকার
নেতৃত্বের কাছ থেকে এমন ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়ার পর আর কালক্ষেপণ করেননি অমিত মিশ্র। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় চালিয়ে দ্রুত নিজের পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পান তিনি। এরপর জাতীয় দলে তার পুনরায় ডাক পাওয়ার বিষয়ে অধিনায়ক কোহলির সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তৎকালীন অধিনায়ক তাকে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বিষয়টি জানিয়ে দেবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর থেকেই শুরু হয় চরম লুকোচুরি ও বেদনাদায়ক উপেক্ষার অধ্যায়।
অভিযোগ করে অমিত বলেন, “আমি তার কাছে জানতে চাইলাম, ‘বর্তমান পরিস্থিতি কী?’ সে তখন আমাকে বলল, ‘আমি তোমাকে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সব জানিয়ে দিচ্ছি।’ কিন্তু এরপর এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ, এমনকি তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেল; সে আর কোনো যোগাযোগ করেনি। এমনকি আমি ফোন করার পর সে আমার কলও রিসিভ করেনি। তাকে একাধিক বার্তা বা মেসেজ পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু সেগুলোরও কোনো উত্তর দেয়নি।”
নীতিমালায় দ্বিমুখী নীতি ও অভিমান
অমিত মিশ্রের সুনির্দিষ্ট দাবি, ভারতীয় দলের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা অন্য খেলোয়াড়েরা যখনই ফিটনেস ফিরে পেতেন, তাদের দ্রুত স্কোয়াডে ফিরিয়ে নেওয়া হতো। কিন্তু তার নিজের বেলায় এই নিয়ম মানা হয়নি। কোহলি ও টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে এই ধরনের উদাসীনতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্যই তার মতো একজন প্রতিভাবান স্পিনারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার অকালেই থমকে গেছে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
এনএন/ ২৩ অক্টোবর ২০২৬







