সিলেট

ভারতে পালানোর চেষ্টা পণ্ড: তামাবিল সীমান্তে জৈন্তাপুর আওয়ামী লীগ সভাপতি গ্রেফতার

সিলেট, ২২ অক্টোবর – ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় সিলেটের সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার হয়েছেন জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল আহমদ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশ চেকপোস্টে পাসপোর্ট ও পরিচয় যাচাই-বাছাইকালে তাকে আটক করা হয়।

সিলেটের জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তার বিরুদ্ধে জৈন্তাপুর থানাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।

যেভাবে জালে আটকালেন আওয়ামী লীগ নেতা

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পৌঁছান কামাল আহমদ।

ইমিগ্রেশন বুথে পরিচয় শনাক্ত: পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর দায়িত্বরত ইমিগ্রেশন পুলিশ কর্মকর্তা তার বিস্তারিত পরিচয় ও ছবি সিস্টেমের সাথে মিলিয়ে দেখেন।

যৌথ অভিযান ও আটক: রাজনৈতিক পরিচয় ও মামলার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটকে রাখে। খবর দেওয়া হয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। পরবর্তীতে তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ি, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং জৈন্তাপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

দ্বিতীয়বারের মতো সীমান্ত এলাকায় আটক

উপজেলা আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতার সীমান্তে ধরা পড়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি অবৈধ উপায়ে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন:

অতীতে জনতার হাতে অবরুদ্ধ: এর আগে জৈন্তাপুরের সীমান্তঘেঁষা ডিবির হাওর এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় সাধারণ জনতার হাতে অবরুদ্ধ হন তিনি। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার ও আটক করে। উক্ত মামলায় কিছুদিন কারাবাসের পর তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্ত পান।

জামিনে বেরিয়ে পুনরায় বৈধভাবে ইমিগ্রেশন পার হয়ে দেশ ছাড়ার এই নাটকীয় চেষ্টা নিয়ে এখন পুরো সিলেটজুড়ে তুমুল তোলপাড় চলছে।

আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের বক্তব্য

সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক জানান, “কামাল আহমদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়কার একাধিক সহিংসতা ও স্থানীয়ভাবে দায়ের করা বিভিন্ন মামলা রয়েছে। মামলাগুলোর নথি যাচাই-বাছাই চলছে এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকারের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অপকর্মের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু হয়েছিল। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমানে তাকে কঠোর পুলিশি পাহারায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এনএন/ ২২ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language