অনিয়মিত অভিবাসী ঠেকাতে গ্রিস ও ইইউর চরম হুঁশিয়ারি: বাংলাদেশিদের ফেরাতে ঢাকা আন্তর্জাতিক চাপে

এথেন্স, ১৮ অক্টোবর – ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধ উপায়ে লিবিয়া ও মিশর হয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশ গ্রিসে প্রবেশ করা বাংলাদেশি অভিবাসীদের রুখতে এবার কঠোর অ্যাকশনে নামছে গ্রিস সরকার ও ইইউ কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকিপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক মানবপাচার রুটটি চিরতরে বন্ধ করতে ঢাকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানো শুরু হয়েছে।
ইউরোপীয় সীমান্ত নিরাপত্তা নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ট্রানজিট ফ্লাইটে বিধিনিষেধ, বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ এবং বিশেষ চার্টার্ড বিমানে সরাসরি অবৈধদের দেশে ফেরত পাঠাতে এখন বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে।
‘বাংলাদেশিরা শরণার্থী নন’: ক্রিট দ্বীপে নতুন উদ্বেগ
সম্প্রতি গ্রিসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ক্রিট (Crete) দ্বীপে এক হাজারের বেশি অনিয়মিত অভিবাসী পৌঁছানোর পর সতর্ক অবস্থানে চলে গেছে গ্রিক প্রশাসন ও সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গ্রিসের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ‘কাথিমেরিনি’ (Kathimerini) এবং ‘গ্রিক সিটি টাইমস’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গৃহযুদ্ধের ফলে জীবন রক্ষার্থে আসা সুদান বা ইয়েমেনের নাগরিকদের মতো বাংলাদেশিরা শরণার্থী নন। বরং তাঁরা উন্নত জীবনের আশায় আকাশপথে প্রথমে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যান, সেখান থেকে মিশর বা লিবিয়ার তোবরুক বন্দরে পৌঁছান এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী মাফিয়াদের হাতে কোটি টাকা তুলে দিয়ে মরণপণ সাগরপথ বেছে নেন।
অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে গ্রিস ও ইইউর ৩ সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ
বিপজ্জনক এই রুট পুরোপুরি অকার্যকর করতে গ্রিস ও ইইউ যৌথভাবে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে:
কায়রো ও লিবিয়াগামী ফ্লাইটে ট্রানজিট কড়াকড়ি: মধ্যপ্রাচ্যের জিসিসি (GCC) দেশগুলো থেকে কায়রো, বেনগাজি ও ত্রিপোলিগামী দূরপাল্লার বিমানযাত্রায় বাংলাদেশি নাগরিকদের ট্রানজিট ও টিকিট ইস্যুতে কড়া নিয়ম চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বিশেষ চার্টার্ড বিমানে ঢাকায় পুশব্যাক: ইতোমধ্যে গ্রিসে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বায়োমেট্রিক ও জাতীয় পরিচয় নিশ্চিত করে দ্রুত বিশেষ চার্টার্ড বিমানে সরাসরি ঢাকায় ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা সমন্বয় করা হচ্ছে।
আশ্রয় আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত: অনিয়মিত অভিবাসীদের আগমন সম্পূর্ণ নিরুৎসাহিত করতে তাদের আশ্রয়ের (Asylum) আবেদন গ্রহণের স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথা ভাবছে গ্রিক সরকার।
ইইউর সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর হিসাব মতে, উত্তর আফ্রিকা থেকে ক্রিট দ্বীপে পৌঁছানোর ভূমধ্যসাগরীয় এই সমুদ্রপথটি বর্তমানে সমগ্র ইউরোপের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক ও সক্রিয় অবৈধ অভিবাসন রুট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এনএন/ ১৮ অক্টোবর ২০২৬







