নির্বাচনী ব্যবস্থা না পাল্টালে গুন্ডাতন্ত্রই চলবে: তাসনিম জারা

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর – দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আমূল সংস্কার না করলে সৎ ও যোগ্য মানুষের রাজনীতিতে আসা অসম্ভব এবং এর ফলে ‘গুন্ডাতন্ত্রই’ রাষ্ট্র পরিচালনা করতে থাকবে বলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে তিনি বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থার গলদ, পেশিশক্তি এবং প্রশাসনিক গাফিলতির চুলচেরা বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
‘অস্ত্র হাতে ধাওয়া করা মানুষ কীভাবে শাসনভার পান?’
সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর সম্প্রতি প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মানুষকে ধাওয়া করার ভিডিও তাঁর নিজের পেজ থেকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা উল্লেখ করে তাসনিম জারা প্রশ্ন তোলেন—”প্রকাশ্যে এই গুন্ডামি দেখানো মানুষ কীভাবে আমাদের শাসন করার দায়িত্ব পান, সেই প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমাজে কি এর চেয়ে যোগ্য ও দায়িত্বশীল মানুষ নেই? অবশ্যই আছেন। কিন্তু তাদের নির্বাচনে দাঁড়ানো, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং জিতে সংসদে যাওয়ার বাস্তব সুযোগ প্রায় বন্ধ করে রাখা হয়েছে।”
নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা: সৎ প্রার্থীর জন্য কেন অসম লড়াই?
রাজনীতিতে সাধারণ ও সততার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে চাওয়া প্রার্থীদের জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতাগুলো ধাপে ধাপে বর্ণনা করেন তিনি:
স্বাক্ষর সংগ্রহ ও দলীয় মনোনয়ন: নতুন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে শুরুতেই হাজার হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের জটিলতায় পড়তে হয়। বিকল্প হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে মনোনয়ন পেতে তদবির করতে হয়, আর দলগুলোর মনোনয়ন দেওয়ার অনৈতিক প্রক্রিয়া বছরের পর বছর ধরে দৃশ্যমান।
নির্বাচনী খরচের দ্বিমুখী নীতি: আইনে খরচের সীমা নির্ধারণ করা থাকলেও সৎ প্রার্থীকে তা মেনে চলতে হয়। বিপরীতে প্রভাবশালী প্রার্থীরা শত কোটি টাকা ঢাললেও নির্বাচন কমিশন নীরব ভূমিকা পালন করে। ফলে সততা বজায় রাখাই প্রার্থীর পিছিয়ে পড়ার কারণ দাঁড়ায়।
পেশিশক্তি ও কেন্দ্র দখল: ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও অনিয়ম ঠেকানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রের হলেও বাস্তবে প্রার্থীকেই ‘নিজের বাহিনী’ তৈরি করতে হয়। পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত পেশিশক্তির কাছে নির্বাচন জিম্মি হয়ে পড়ে।
‘গুন্ডাতন্ত্র’ থেকে উত্তরণের আকুতি
পোস্টের শেষাংশে পুরোনো সেই আলোচিত স্লোগানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তাসনিম জারা লেখেন, “১০টা হোন্ডা, ২০টা গুন্ডা, নির্বাচন ঠান্ডা”– এই নীতি বজায় রেখে ভালো রাজনৈতিক পরিবেশের আশা করা অবান্তর।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইন ও প্রশাসনের এই দ্বৈত নীতি এবং প্রভাবশালী প্রথা না বদলালে অস্ত্রের জোর ও অর্থবিত্তের মালিকরাই বারবার প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হতে থাকবে। তাই সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সর্বাগ্রে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।
এনএন/ ১৮ অক্টোবর ২০২৬







