মাদক কারবারিদের ধাওয়া করতে গিয়ে ভারতে আটক! পতাকা বৈঠক শেষে দেশে ফিরলেন ২ পুলিশ সদস্য

কুমিল্লা, ১৬ অক্টোবর – ভুলবশত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যাওয়ার পর বিএসএফের হাতে আটক হওয়া বাংলাদেশের দুই পুলিশ সদস্য অবশেষে সুস্থভাবে স্বদেশে ফিরেছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নারায়ণপুর সীমান্তের ২০৫৮/৭-এস (২০৫৭ নম্বর মেইন পিলার) এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের উচ্চপর্যায়ের এক ফলপ্রসূ পতাকা বৈঠকের পর তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
ফিরে আসা পুলিশ সদস্যরা হলেন—ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরান হোসেন এবং কনস্টেবল রহিত দেওয়ান। এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় সাময়িকভাবে উত্তেজনা তৈরি হলেও সৌহার্দ্যপূর্ণ পতাকাব বৈঠকের মধ্য দিয়ে বিষয়টির সুরাহা হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্য কাহিনী: যেভাবে ঘটেছিল এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা?
স্থানীয় ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দায়িত্ব পালনকালে মাদক কারবারিদের একটি সংঘবদ্ধ দলকে ধাওয়া করছিলেন ওই দুই পুলিশ সদস্য। উত্তেজনাকর সেই পরিস্থিতিতে অসাবধানতাবশত তারা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েন।
কারবারিদের নাটকীয় চক্রান্ত: ভারতীয় সীমানায় প্রবেশ করার পর স্থানীয় কিছু চোরাকারবারি সুযোগ বুঝে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে এবং মারমুখী আচরণ করে তাদের আটক করে বিএসএফের (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) হাতে তুলে দেয়।
বিজিবির দ্রুত পদক্ষেপ: খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিএসএফের সাথে যোগাযোগ করে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়।
শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর প্রক্রিয়া: দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতিতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং কোনো জটিলতা ছাড়াই পুলিশ সদস্যদের বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
“মাদক কারবারিদের ধাওয়া করতে গিয়ে ভুলবশত সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে চলে যান দুই পুলিশ সদস্য। পরে বিজিবির তৎপরতা ও ফলপ্রসূ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।” দেবিদ্বার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শাহিন।
পতাকা বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন
উক্ত শান্তিপূর্ণ ও সফল হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন ও উপস্থিত ছিলেন:
- লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম (কোম্পানি কমান্ডার, শশীদল বিওপি, ৬০ বিজিবি – সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন)
- মো. শাহিন (সহকারী পুলিশ সুপার, দেবিদ্বার সার্কেল)
- মো. ফারুক হোসেন (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা – ওসি, ব্রাহ্মণপাড়া থানা)
- সুবেদার মোহাম্মদ তাকবীর হোসেন (কমান্ডার, শশীদল বিওপি)
সীমান্তবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল এড়াতে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন মহল।
এনএন/ ১৬ অক্টোবর ২০২৬







