জাতীয়
ঢাবিতে গাড়ির ধাক্কায় ৭ শিক্ষার্থী আহত, মামলা করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

ঢাকা,১৩ অক্টোবর-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের ছেলে সাদমান সাকিবের গাড়ির ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের গেটের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আহত সাত শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের আর বাকিরা মার্কেটিং বিভাগের ৩২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। গাড়ির ধাক্কায় ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়ার পা ভেঙে যায় এবং আহত অবস্থায় তার মুখ থেকে প্রচুর রক্ত বের হচ্ছিল বলে জানা গেছে। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আহত অন্য শিক্ষার্থীদের হাত, পা ও হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কেটে ও ছিলে গেছে বলে জানা গেছে। তাদের প্রথমে মর্তুজা মেডিকেল সেন্টারে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন খুব ভয় পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়লে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। আর বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত সাদমান সাকিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের একজন শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, সাদমান গাড়ি চালানো শিখছিলেন। ওই সময় তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেন। ঘটনার পরপরই সেখানে থাকা শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।
সাদমান সাকিব এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি আগে কখনো তেমন গাড়ি চালাইনি। আজকে শুধুই শখের বশে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলাম। সাথে ড্রাইভারও ছিল। চালাতে চালাতে আমি কলাভবনের দিকে একটা চক্কর দিয়ে আসি। ওই সময় হঠাৎ বেশি মানুষ দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। এফবিএসের সামনে এসে ব্রেক চাপতে গিয়ে ভুল করে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে ফেলি। সাথে সাথেই গাড়িটি দ্রুতগতিতে ছুটতে শুরু করে। সামনে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রথমে গাড়িটি ধাক্কা দেয়। পরে ড্রাইভারের সাহায্যে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।’
দুর্ঘটনার আগে গাড়িটি অস্বাভাবিক গতিতে চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিনহা মল্লিক। তিনি জানান, ‘আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে স্যাডো থেকে সাইকেল নিয়ে এফবিএস রোডে উঠতেই গাড়িটি আমাকে অস্বাভাবিকভাবে ওভারটেক করে এফবিএসের দিকে চলে যায়। সামনে যেসব রিকশা বা শিক্ষার্থী আসছিল, তাদের সবাইকে লক্ষ্য করে জোরে জোরে হর্ন দিচ্ছিল। হয়তো সেবার দুর্ঘটনাটি ঘটেনি, তবে পরের চক্করে এসে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।’
ঘটনার পর প্রক্টর অফিসে উপস্থিত থাকা ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করার অনুরোধ জানান। এই দাবির পক্ষে তারা একটি লিখিত আবেদন তৈরি করেন এবং শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস সম্মতি প্রকাশ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শান্টু বড়ুয়া জানান, ‘আহত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় মামলা করার বিষয়ে লিখিতভাবে আমাদের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। প্রক্টর অফিসও এই বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রক্টর অফিসের তরফ থেকে এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজেই বাদী হয়ে মামলা করবে বলে আমরা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছি।’
এই ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত সাদমানের বাবা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্তই নেবে, তিনি সেটা মেনে নেবেন।
এস এম/ ১৩ অক্টোবর ২০২৬





