ক্যালিনিনগ্রাদে হামলা বা অবরোধ হলে সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি পুতিনের

মস্কো, ০২ অক্টোবর- রাশিয়ার বাল্টিক অঞ্চলের বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড ক্যালিনিনগ্রাদ সরাসরি কোনো হামলার শিকার হলে বা পশ্চিমারা এটিকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করলে নিজেদের হাতে থাকা সব ধরনের সামরিক অস্ত্র ব্যবহারের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ভ্যালদাই ফরেন পলিসি ফোরামে দেওয়া ভাষণে তিনি এই কড়া বার্তা দেন। পুতিন স্পষ্ট করে বলেন, মস্কো কাউকে হুমকি দিচ্ছে না এবং ২০২৯, ২০৩০ বা ২০৫০ সালেও কারও ওপর আগ বাড়িয়ে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে রাশিয়া সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের মুখে পড়লে তার উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দিতে তারা কোনো দ্বিধা করবে না।
ভাষণে পুতিন বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন নেতা সম্প্রতি দাবি করছেন, রাশিয়া ২০২৯ বা ২০৩০ সালের দিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্য এবং বাল্টিক সাগরে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সাম্প্রতিক নৌ মহড়াকে ক্যালিনিনগ্রাদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। পুতিন সতর্ক করে বলেন, রাশিয়া যদি মনে করে তাদের কোনো ভূখণ্ড সরাসরি আক্রান্ত হচ্ছে, তাহলে পারমাণবিক অস্ত্রসহ রাশিয়ার হাতে থাকা প্রতিটি অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অবধারিতভাবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনায় চলে আসবে।
বিশ্বের শীর্ষ শক্তিগুলোর হাতে থাকা ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে নাটকের মঞ্চের বহুল পরিচিত একটি রূপকের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মঞ্চের শুরুতে যদি কোনো বন্দুক ঝুলতে দেখা যায়, তাহলে নাটকের শেষে সেটি নিশ্চিতভাবেই ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ফ্রান্স বা যুক্তরাজ্যের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে মস্কো পুরোপুরি সচেতন। তবে রাশিয়ার কাছে এমন কিছু আধুনিক অস্ত্র রয়েছে, যা অন্য কারও নেই এবং এটিই মস্কোর বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সুবিধা।
দীর্ঘ এই বক্তৃতায় পশ্চিমা আধিপত্যের অবসান ঘটার আশা প্রকাশ করে পুতিন বলেন, বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারকারী বহুপাক্ষিক কাঠামোর দুর্বলতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংঘাতগুলোও হয়তো ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে।
এস এম/ ০২ অক্টোবর ২০২৬







