রাশিয়া-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলায় একদিনে নিহত অন্তত ১০

মস্কো, ২৭ সেপ্টেম্বর- রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও তীব্র হয়েছে। শনিবার ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ হামলায় একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে দুই নারী নিহত হন। একই দিনে সুমি শহরেও পৃথক রুশ হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কিয়েভ, জাপোরিঝঝিয়া, ওদেসা, সুমি ও খারকিভ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া প্রতিদিনই হামলার মাত্রা বাড়াচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কিয়েভের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা এবং বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন বলে আঞ্চলিক গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, হামলায় দুটি শিল্প স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। রুশ সংবাদমাধ্যম পরে জানায়, ওই হামলার লক্ষ্য ছিল একটি তেল শোধনাগার।
এর আগে রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের নোভোশাখতিনস্ক তেল শোধনাগারেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা হয়। হামলার পর শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, ওই রাতে শুধু রোস্তভ অঞ্চলেই প্রায় ৫০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়।
ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলাও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। রুশ বাহিনী ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি শক্তিশালী গ্লাইড বোমা এবং দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করছে। কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রায় নিয়মিতই বড় আকারের বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।
শুক্রবার কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলায় সাতজন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৪ বছরের এক কিশোরও ছিল। একই হামলায় ৫৮ জন আহত হন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। হামলার পর ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা আর্সেলর মিত্তাল ক্রিভি রিহ উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পাঁচ সপ্তাহে চার দফা হামলায় কারখানাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিরাপদ ও টেকসইভাবে উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার কিয়েভে তাদের হামলায় মোবাইল ইন্টারনেট ও স্টারলিংক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থায় সহায়তা দেওয়া একটি ডেটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের রাজধানীতে হামলায় চারজন আহত এবং আবাসিক ও অফিস ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
রাশিয়া-ইউক্রেনের এই পাল্টাপাল্টি হামলা এমন এক সময়ে বাড়ছে, যখন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চলছে। যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় রুশ হামলা বন্ধের বিনিময়ে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনীয় হামলা কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তবে সাম্প্রতিক হামলার ধারাবাহিকতা বলছে, কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি দুই পক্ষের আকাশযুদ্ধও অব্যাহত রয়েছে। আলজাজিরার সর্বশেষ হিসাবে শনিবার রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধের সম্মুখসারিতে বড় ধরনের অগ্রগতি ধীর হয়ে এলেও দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এখন উভয় পক্ষের সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এতে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি, শিল্প, যোগাযোগ অবকাঠামো ও আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এস এম/ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬







