অপরাধ

চট্টগ্রামের কারাগারে ১৯৮ বিদেশি বন্দি: অনলাইন ফ্রড ও মাদক চক্রে জড়িয়ে পড়ছে লাওস-চীন-নাইজেরিয়ার নাগরিকরা

চট্টগ্রাম, ১৬ সেপ্টেম্বর – চট্টগ্রাম বিভাগের ৮টি কারাগারে মাদক পাচার, আন্তর্দেশীয় অনলাইন প্রতারণাসহ মারাত্মক সব অপরাধের মামলায় বর্তমানে মোট ১৯৮ জন বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে ৩০ জন আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি এবং বাকি ১৬৮ জন হাজতি হিসেবে বিচার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্দিদের তালিকায় রয়েছে মিয়ানমার, চীন, নাইজেরিয়া, লাওস, পাকিস্তান, নেপাল ও ভিয়েতনামের মতো দেশের নাগরিকরা। এদের মধ্যে মিয়ানমারের নাগরিকদের সিংহভাগই সীমান্ত দিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচার মামলার আসামি।

সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর অভিযান ও আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্র

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে বিদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততায় দুটি বড় ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্র উন্মোচন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী:

খুলশীতে মেগা ফ্রড রেইড (১০ সেপ্টেম্বর): চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকার একটি ভবনে যৌথ অভিযান চালিয়ে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ জন নাগরিককে গ্রেফতার করে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়, যা চাকরির প্রলোভনে অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো।

কক্সবাজারে আইফোন কারসাজি (৩ সেপ্টেম্বর): কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেল থেকে ৫ চীনা ও ১ তাইওয়ানিজ নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১,৯৩৮টি আইফোন এবং ৪০টি ল্যাপটপ জব্দ করে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক কোকেন চালানে নাইজেরিয়ান ফুটবলাররা

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কম্পিউটারের ইউপিএস (UPS)-এর ভেতর থেকে ৩ কেজি ৯০০ গ্রাম কোকেনসহ বাহামা দ্বীপপুঞ্জের নাগরিক স্ট্যাশিয়া শ্যান্টিয়া রোলকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে এই আন্তর্জাতিক কোকেন সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর নাইজেরিয়ান দুই নাগরিক—আফিজ ওয়াহাব ও ইকোচুকু এনওয়াগডকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, তারা দুজনেই পেশাদার ফুটবলার এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ক্লাবে খেলতেন।

এক নজরে চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ কারাগারে বিদেশি বন্দির সংখ্যা

  • চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার ৮৩ জন (১৩ জন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিসহ)
  • কক্সবাজার কারাগার ৬১ জন
  • বান্দরবান কারাগার ৪৫ জন
  • ফেনী-১ কারাগার ৩ জন
  • কুমিল্লা ও রাঙামাটি| ২ জন করে (মোট ৪ জন)
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালী| ১ জন করে (মোট ২ জন)
  • সর্বমোট বন্দি ১৯৮ জন

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া জানিয়েছেন, বিভিন্ন অপরাধের দায়ে বিভাগের কারাগারগুলোতে আন্তর্জাতিক বন্দি রয়েছেন এবং মিয়ানমারের নাগরিকদের সিংহভাগই সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।

কক্সবাজার ও সমুদ্র উপকূলীয় চট্টগ্রাম অঞ্চলে সীমান্ত ঘেঁষে যেভাবে বিদেশি অপরাধীদের আনাগোনা ও অনলাইন হাইটেক প্রতারণা বিস্তার লাভ করছে, তা দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও রাজস্ব ব্যবস্থার জন্য নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

এনএন/ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language