ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি মামুনের কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ফাঁস! স্ত্রী-শ্যালকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর – প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদ, তার স্ত্রী ও শ্যালকের অবৈধ সম্পদের সাম্রাজ্য এবার প্রকাশ্যে। মোট ৮ কোটি ৪ লাখ টাকারও বেশি অবৈধ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই তিনটি মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়। শিগগিরই কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) মামলাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।
সাবেক প্রভাবশালী এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের খবর সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের ঝড়।
কার নামে কত টাকার অবৈধ সম্পদ? দুদকের মামলার খতিয়ান
দুদক সূত্রে জানা গেছে, পৃথক তিনটি মামলায় অভিযুক্তদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের ভাগ অনুযায়ী আসামিদের চিহ্নিত করা হয়েছে:
প্রথম মামলা (শেখ মামুন খালেদ): ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজির নিজের নামে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রথম মামলাটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলা (স্ত্রী নিগার সুলতানা): শেখ মামুনের স্ত্রী নিগার সুলতানাকে আসামি করে ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৯ টাকার অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দ্বিতীয় মামলাটি অনুমোদন পায়।
তৃতীয় মামলা (শ্যালক শেখ আনিমুর রহমান): সবচেয়ে বড় অঙ্কের টাকার হিসাব উঠে এসেছে তার শ্যালকের নামে! ৫ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে শ্যালক আনিমুর রহমানের বিরুদ্ধে তৃতীয় মামলাটি দায়ের করা হচ্ছে।
সবগুলো মামলাই ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’-এর ২৭(১) ধারায় দায়ের করা হচ্ছে।
কীভাবে গড়ে ওঠে সম্পদের পাহাড়? অনুসন্ধানে দুদকের টিম
দুদক সূত্রে জানা যায়, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে শেয়ার বাজারে বিপুল টাকা বিনিয়োগ, পদের অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও চরম দুর্নীতির মাধ্যমে নিজের ও স্বজনদের নামে বিপুল সম্পত্তি বানানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।
দুদকের পরিচালক এস এম এম আখতার হামিদ ভূঞার নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পায়। অনুসন্ধান টিমের সদস্য ও সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল বাদী হয়ে এই তিনটি মামলা দায়ের করতে যাচ্ছেন।
এনএন/ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬







