জাতীয়

৬ মাসে এলো ১,৮৯৪ কোটি ডলার! হুন্ডি থামিয়ে হু হু করে বাড়ছে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর – দেশের অর্থনীতির প্রধানতম চালিকাশক্তি প্রবাসী আয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরণের স্বস্তি। ব্যাংকিং চ্যানেলে হুন্ডি নিরুৎসাহিত করা ও বৈধ পথে প্রণোদনার প্রভাবে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট—এই টানা ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১৩ দশমিক ১ শতাংশ!

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, এই ছয় মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন রেকর্ড ১ হাজার ৮৯৪ কোটি মার্কিন ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের (১,৬৭৪ কোটি ডলার) তুলনায় প্রায় ২২০ কোটি ডলার বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, পর্যালোচিত ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসই রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে বিদায়ী আগস্ট মাসে সর্বোচ্চ ২২ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।

মাসভিত্তিক প্রবাসী আয় (মার্কিন ডলারে):

মার্চ: ৩৭৫ কোটি ডলার

এপ্রিল: ৩১৩ কোটি ডলার

মে: ৩৪৩ কোটি ডলার

জুন: ২৮১ কোটি ডলার

জুলাই: ২৮৬ কোটি ডলার

আগস্ট: ২৯৬ কোটি ডলার

শীর্ষে ৫ দেশ: মোট আয়ের ৬০% এসেছে যেখান থেকে

অর্থনৈতিক ধস ও বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশিদের প্রধান কর্মসংস্থান খাত মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমাঞ্চলের দেশগুলো থেকে আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে।

১. সৌদি আরব: ৩০৮ কোটি ৮ লাখ ডলার (শীর্ষে)
২. যুক্তরাজ্য: ২৯৪ কোটি ২ লাখ ডলার
৩. সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই): ২২৬ কোটি ৭২ লাখ ডলার
৪. যুক্তরাষ্ট্র: ১৭১ কোটি ৬৫ লাখ ডলার
৫. মালয়েশিয়া: ১৪৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার

কেবল এই পাঁচটি দেশ থেকেই দেশে এসেছে মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ অর্থ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সময়োপযোগী নীতি এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণেই প্রবাসীদের আস্থা বেড়েছে।

তিনি মনে করেন, রেমিট্যান্সের এই চাঙ্গাভাব অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে এবং একই সঙ্গে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব আসবে।

এনএন/ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button