নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেও তুরস্কে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিল ইসরায়েল

তেল আবিব,১০ সেপ্টেম্বর- নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তুরস্কের আঙ্কারায় দূতাবাস কার্যত বন্ধ থাকলেও চলতি সপ্তাহে জোয়েল লায়নকে নতুন রাষ্ট্রদূত প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ইসরায়েল। লায়ন এর আগে মলদোভায় আবাসিক রাষ্ট্রদূত এবং পরে আর্মেনিয়ায় অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইরিত লিলিয়ানের অবসরের পর তুরস্কে রাষ্ট্রদূতের পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। সেই শূন্যপদ পূরণের জন্যই লায়নকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করতে বুধবার লায়ন আঙ্কারায় উপস্থিত ছিলেন।
ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, দূতাবাসের বর্তমান অবস্থাটি পুরোপুরি নিরাপত্তাসংক্রান্ত এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দূতাবাসটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়নি, কারণ স্থানীয় কর্মীরা তুরস্কে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, উভয় পক্ষই একমত যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দূতাবাসটি বন্ধ রাখা উচিত।
২০২৩ সালের শেষের দিকে আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুল থেকে নিজেদের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার পর লায়নের এই সফর ছিল কোনো জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তার প্রথম সফর। ২০২২-২০২৩ সালে দুই দেশের সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হলেও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর থেকে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে বিরোধ ক্রমেই তীব্র হয়েছে। আঙ্কারা শুরুতে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছিল। পরে তারা গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে এবং ২০২৪ সালে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে সিরিয়া ইস্যুতে দুই দেশের উত্তেজনা শুধু কথার লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা আরও বেড়েছে। গত মাসে ইসরায়েল উত্তর সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়। ঘাঁটিটি তুরস্কের সীমান্ত থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইসরায়েলের দাবি ছিল, তুরস্ক ওই ঘাঁটিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, যা ইসরায়েলের আকাশপথে অভিযান পরিচালনার স্বাধীনতায় বাধা তৈরি করতে পারত।
আঙ্কারা সাধারণত মনে করে, আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরাজিত হলে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে আবারও আলোচনার পথ খুলতে পারে। তবে ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা যুক্তি দেন, অন্য দলগুলোর সঙ্গে ভিন্ন কোনো জোট গঠনের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সরকার টিকে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পরিবর্তন হলে এই অঞ্চল নিয়ে ইসরায়েলের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তুর্কি গণমাধ্যমে ইসরায়েলবিরোধী উসকানি।
এস এম/ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬







