মধ্যপ্রাচ্য

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় এ-১০ ও প্রায় ৮টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

আম্মান,১০ সেপ্টেম্বর- মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার মধ্যে জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের রাতভর হামলায় একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি এ-১০ ‘ওয়ারথগ’ এবং প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে এ-১০ যুদ্ধবিমানটির একটি ডানা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের প্রতিবেদক জেনিফার জ্যাকবসের বরাতে দ্য জেরুজালেম পোস্ট, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল ও লাইভমিন্ট জানিয়েছে, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে রাতভর ইরানি হামলায় এসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ-১০ থান্ডারবোল্ট, যা ‘ওয়ারথগ’ নামেও পরিচিত, সরাসরি হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে একটি ডানা হারিয়েছে। অন্যদিকে প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে সেগুলো আবার ব্যবহারে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার সময় জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ৩০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি দেশটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানে এই ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়ে আসছে।

পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা

জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে এই হামলার ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এর আগে মার্কিন বাহিনী ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করার কথা জানায়। ওয়াশিংটনের দাবি, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার জবাবে এসব ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়। এরপর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি পাল্টা হামলার দাবি করে।

ইরানি বাহিনী জানিয়েছে, তারা একাধিক জাহাজ ও মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে জর্ডানের ঘাঁটিও ছিল। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের হামলায় কোনো মার্কিন নৌযান আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি এবং ইরানি বাহিনীর নৌযান লক্ষ্য করে চালানো হামলার সবকটিই ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে তারা ইরানের ১০টি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে।

জর্ডানকে ঘিরে বাড়ছে ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র জর্ডান চলমান সংঘাতে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দেশটিতে একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে। ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সংঘাতের প্রভাব জর্ডানের ওপরও পড়ছে। সর্বশেষ হামলার আগে ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এর আগেও ইরানি হামলায় জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

হরমুজ ঘিরেও উত্তেজনা

জর্ডানে হামলার পাশাপাশি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে। ইরান হরমুজ প্রণালির আশপাশে জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছে। গত কয়েক দিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে বেশ কয়েকটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালির কাছে একাধিক জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।

জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর তাই শুধু একটি সামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত যে মধ্যপ্রাচ্যের আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, সর্বশেষ ঘটনাটি তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন বিমানগুলোর সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পেতে আরও আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষা করতে হবে।

এস এম/ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button