ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী

ওয়াশিংটন, ৭ সেপ্টেম্বর – ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শেষ পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি নাও হতে পারে। কূটনৈতিক সমঝোতা ব্যর্থ হলে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা সামরিকভাবে ধ্বংস করার পথ বেছে নিতে পারে ওয়াশিংটন।
গত রবিবার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এবিসি নিউজের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ সব কথা বলেন। রাইট বলেন, ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তার বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল না হলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনার বাইরে নয়।
এর আগে পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তার অভিযোগে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যদিও ইরান বরাবরই তাদের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বলে দাবি করে আসছে। রাইট উল্লেখ করেন, বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা যেমন সীমিত হয়ে এসেছে, তেমনি তাদের পারমাণবিক সক্ষমতাও কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তবে তিনি এও জানান যে, ইরানে নতুন কোনো নেতৃত্ব এলে ভবিষ্যতে একটি চুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই সংঘাতকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করছে। গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একে ছোটখাটো বিষয় হিসেবে অভিহিত করেন। রাইট আশা প্রকাশ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জন করবে।
এস এম/ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
FAQ
ইরানের সঙ্গে কি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক চুক্তি হবে?
এখনও নিশ্চিত নয়। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পারমাণবিক চুক্তি নাও হতে পারে।
ক্রিস রাইট ইরান নিয়ে কী বলেছেন?
তিনি বলেছেন, চুক্তি না হলে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করার পথ বেছে নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দিয়েছে?
না। রাইট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য উন্মুক্ত।
কেন ইরানের পরবর্তী প্রশাসনের কথা বলা হচ্ছে?
রাইটের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তি না হলে ইরানে ভবিষ্যৎ প্রশাসন ক্ষমতায় এলে নতুন করে সমঝোতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাব কি তেলের বাজারে পড়ছে?
হ্যাঁ। হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেল পরিবহণে ঝুঁকি বাড়িয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে তেলের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।







