মধ্যপ্রাচ্য

ইয়েমেনের মোখা বন্দরে হুতি ও সরকারি বাহিনীর তীব্র লড়াইয়ে ১৫০ জনের প্রাণহানি

ইয়েমেনের মোখা ও তাইজ এলাকায় হুতি ও সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ
ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে।

সানা’আ , ৫ সেপ্টেম্বর – ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া লড়াইয়ে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২০-র বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। সর্বশেষ হিসাবে এক দিনেই সরকারি বাহিনীর ২৬ সেনা এবং ৩১ হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের পাশাপাশি তাইজ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি ঘিরে ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের সংঘাত ফের আরও বড় আকার নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চল ও তাইজ প্রদেশের একাধিক ফ্রন্টে হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। সাম্প্রতিক হামলায় হুতিরা তাইজ থেকে আল-মোখা বা মোখা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে সরকারি বাহিনী জানিয়েছে।

৩ সেপ্টেম্বরের লড়াইয়ে হুতিরা পশ্চিম তাইজের মাকবানাহ ও আল-কাধাহ ফ্রন্টে আক্রমণ চালায়। সরকারি বাহিনী দাবি করে, পাল্টা অভিযানে তারা হুতিদের অবস্থানে হামলা চালিয়ে আক্রমণ প্রতিহত করেছে।

হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময় ও সূত্রে আলাদা হিসাব পাওয়া যাচ্ছে। এএফপি ৪ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিল, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে ১২০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

৫ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ হিসাবে শুধু এক দিনের লড়াইয়েই অন্তত ২৬ জন সরকারি সেনা এবং ৩১ জন হুতি যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে বলে সামরিক ও চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ ওই দিনের হিসাবে অন্তত ৫৭ জন নিহত হয়েছেন।

এখানে বিভিন্ন সময়ের হিসাব একসঙ্গে যোগ করে মোট মৃতের সংখ্যা নির্ধারণ করা ঠিক হবে না, কারণ একই ঘটনার হতাহতের সংখ্যা বিভিন্ন সময়ে সংশোধিত হয়েছে।

সংঘর্ষের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলির একটি হল সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনা। তাইজে হুতি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি বাসে থাকা ছয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এর ফলে সামরিক সংঘর্ষের পাশাপাশি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।

আল-মোখা বা মোখা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের অন্যতম লক্ষ্য এই উপকূলীয় অঞ্চল এবং তাইজের সঙ্গে মোখাকে যুক্ত করা যোগাযোগপথ।

এর আরও বড় কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে বাব আল-মান্দাব প্রণালির কারণে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলের এই জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে হুতিদের উপকূলীয় অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা নিয়ে তাই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও নৌ-বাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইয়েমেনে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর কয়েক বছর তুলনামূলকভাবে কম মাত্রায় স্থল সংঘর্ষ চললেও ২০২৬ সালে পরিস্থিতি আবার দ্রুত অবনতি হয়েছে। সাম্প্রতিক হুতি অভিযান পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান ও যোগাযোগপথকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সরকারি বাহিনীর দাবি, হুতিরা তাইজকে উপকূল থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে হুতি পক্ষও নিজেদের সামরিক অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে। ফলে সংঘর্ষের প্রকৃত সামরিক ফলাফল নিয়ে দুই পক্ষের দাবিকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সংঘর্ষ পশ্চিম উপকূল ও তাইজের নির্দিষ্ট ফ্রন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ইয়েমেনের অন্যান্য এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়বে।

মোখা ও বাব আল-মান্দাবের আশপাশে সামরিক চাপ বাড়লে এর প্রভাব শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। ওই অঞ্চলের নৌপথের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথের দিকে নজর রাখছে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহল।

এনএন/ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬




FAQ

ইয়েমেনে হুতি ও সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষে কতজন নিহত হয়েছেন?

এএফপির ৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে ১২০-র বেশি মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল। ৫ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ হিসাবে আরও ২৬ সরকারি সেনা ও ৩১ হুতি যোদ্ধা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইয়েমেনের কোথায় সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ হচ্ছে?

পশ্চিম তাইজ, আল-কাধাহ ও মাকবানাহ ফ্রন্ট এবং লোহিত সাগর উপকূলের মোখা-সংলগ্ন এলাকায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

তাইজে কতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন?

তাইজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয় বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মোখা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

মোখা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী এবং বাব আল-মান্দাবের কাছাকাছি হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

সংঘর্ষ কি ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে আবার বড় আকার দিতে পারে?

সাম্প্রতিক লড়াই ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে সংঘর্ষ কতটা বিস্তৃত হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

Back to top button