উত্তর আমেরিকা

বাণিজ্য যুদ্ধ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন: ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্ষুব্ধ কানাডাবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সংঘাতের মধ্যে কানাডায় মার্কিন পণ্য বয়কটের প্রতীকী চিত্র
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির প্রতিবাদে কানাডায় মার্কিন পণ্য বর্জনের প্রবণতা বাড়ছে।

ওয়াশিংটন, ৪ সেপ্টেম্বর – দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। বাণিজ্য বিরোধ, মার্কিন শুল্কনীতি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপে কানাডার সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটির অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে।

কানাডার নাগরিকদের মধ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের প্রবণতা যেমন কমেছে, তেমনি মার্কিন পণ্য বয়কটের ডাকও শক্তিশালী হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, কানাডার বিভিন্ন শহরে বর্তমানে মার্কিন পণ্য বর্জনের হিড়িক লেগেছে। ভোক্তারা এখন মার্কিন পণ্যের পরিবর্তে নিজেদের দেশে উৎপাদিত পণ্য কেনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানও এখন মার্কিন সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব দেশ কিংবা ইউরোপের দেশগুলো থেকে বিকল্প উৎস খোঁজার চেষ্টা করছে।

ভ্রমণের ক্ষেত্রেও কানাডিয়ানদের মধ্যে একই ধরনের অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগে যারা নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে যেতেন, তাদের বড় একটি অংশ এখন দেশের ভেতরেই ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। অনেকে আবার দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক গন্তব্য হিসেবে ইউরোপকে বেছে নিচ্ছেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর দাবি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, শতকরা ৭৬ ভাগ কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা থেকে সরে আসার সরকারি সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপে দুই দেশের কয়েক দশকের পুরনো গভীর সম্পর্কে এই টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে বেশ কিছু কানাডীয় পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছে, যার পাল্টা জবাব দিয়েছে কানাডাও। এই অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি নতুন বাজার ও বাণিজ্যিক অংশীদার খোঁজার ওপর বিশেষভাবে জোর দিচ্ছেন।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন জনগণের প্রতি মাত্র ৪৫ শতাংশ কানাডিয়ানের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে, যেখানে ৪৮ শতাংশই নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন অন্তত ৭৯ শতাংশ কানাডিয়ান। বর্তমান এই বৈরিতা কেবল রাজনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব পড়ছে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গভীর বন্ধনেও।

এনএন/ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬




FAQ

কানাডিয়ানরা কেন মার্কিন পণ্য বয়কট করছেন?

মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সংঘাত। এর প্রতিবাদে কিছু কানাডিয়ান মার্কিন পণ্যের বদলে দেশীয় বা অন্য দেশের বিকল্প বেছে নিচ্ছেন।

কানাডা কি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ করেছে?

আগস্টে কানাডা বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছিল। তবে ৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানান, পারস্পরিকভাবে লাভজনক চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলে কানাডা আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত।

কানাডার পাল্টা শুল্ক কবে কার্যকর হবে?

নতুন কানাডীয় পাল্টা শুল্ক ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। পণ্যের ধরন অনুযায়ী শুল্কের হার ১৫%, ২৫% বা ৫০% হবে।

কত শতাংশ কানাডিয়ান সরকারের কঠোর অবস্থানকে সমর্থন করছেন?

অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের আগস্টের জরিপ অনুযায়ী, ৭৬ শতাংশ কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।

কানাডিয়ানদের ট্রাম্প সম্পর্কে মতামত কী?

একই সময়ের অ্যাঙ্গাস রিড জরিপে ৭৯ শতাংশ কানাডিয়ান ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে নেতিবাচক মতামত জানিয়েছেন।

Back to top button