জাতীয়

গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি মামুনুল হকের

বগুড়ায় সমাবেশে গণভোটের রায় নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন মামুনুল হক
বগুড়ার সাতমাথার খোকন পার্কে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

বগুড়া, ৪ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া ‘হ্যাঁ’ রায়কে উপেক্ষা করা হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

শুক্রবার বিকেলে বগুড়ার সাতমাথার খোকন পার্কে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। গণভোটের গণরায় কার্যকর করা এবং জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

সমাবেশে মামুনুল হক বলেন, বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি একই তফসিলে ও একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার যদি ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় বানচাল করার চেষ্টা করে, তবে তা জনগণের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা হবে।

গণভোটের ফলাফলকে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হলে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে সংবিধানে ১৭ বার সংশোধন আনা হলেও পরবর্তীতে সরকার বা আদালতের সিদ্ধান্তে তা টেকেনি। তাই সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস’ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এমনভাবে প্রতিস্থাপন করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা আদালত তা সহজে বাতিল করতে না পারে।

মামুনুল হক আরও বলেন, আগামী দিনের সরকারকে ফ্যাসিবাদমুক্ত রাখতে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। এ সময় তিনি ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ ও কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ রেখে দেশ ও জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলটির জেলা সেক্রেটারি মুফতি মামুন রহমানী। সমাবেশে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।

এনএন/ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬




FAQ

১. বগুড়ায় মামুনুল হক কী বলেছেন?

তিনি বলেছেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। গণভোটের ফলকে অবৈধ ঘোষণা করা হলে সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২. ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট কত ছিল?

নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত হিসাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট ছিল ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি। বৈধ ভোটের মধ্যে এর হার প্রায় ৬৮.২৬ শতাংশ।

৩. গণভোটটি কবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

৪. মামুনুল হক কী ধরনের সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন?

তিনি সাধারণ সংশোধনের পরিবর্তে স্থায়ী সাংবিধানিক সংস্কারের কথা বলেছেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও ‘আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস’ সংক্রান্ত বিধানের কথা উল্লেখ করেছেন।

৫. সমাবেশটি কোথায় হয়েছিল?

বগুড়া শহরের সাতমাথার খোকন পার্কে শুক্রবার বিকেলে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।

Back to top button