নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বিপর্যয়: চীনের বিরুদ্ধে তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ

কাঠমান্ডু, ২৯ আগস্ট – নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের আগে চীনের কাছ থেকে কোনো সময়োপযোগী সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন নেপালের সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী মাধব প্রসাদ চৌলাগাইন। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে গত বুধবার স্থানীয় সময় সকালে বরফ পাথর ও কাদার ভয়াবহ স্রোত সীমান্তে আঘাত হানার আগে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে কোনো আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়নি।
চৌলাগাইনের মতে দুই দেশের মধ্যে দুর্যোগ সংক্রান্ত তথ্য আদান প্রদানে ঘাটতির কারণে এই বিপর্যয়ে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে দুই দেশের মধ্যে ইতিপূর্বে হিমবাহ সংক্রান্ত ঘটনার পর আগাম সতর্কতা ও তথ্য বিনিময়ের একটি ব্যবস্থা নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল। তবে বর্তমান বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।
বন্যার সূত্রপাত নেপালের ভূখণ্ডে হয়েছিল বলে বেইজিংয়ের যে দাবি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন সাবেক এই মন্ত্রী। তার দাবি অনুযায়ী এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত তিব্বত অংশেই হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন যে নেপালের বিদ্যমান আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা মূলত হিমবাহের হ্রদ থেকে সৃষ্ট বন্যার ঝুঁকি শনাক্ত করে।
কিন্তু এবারের ঘটনায় পাথর ও বরফের ধসের ফলে নদীপথে যে ধ্বংসাবশেষের স্রোত তৈরি হয়েছে তা আগে থেকে বিবেচনা করা হয়নি। নেপাল ভারত ও চীনের মধ্যে কার্যকর আঞ্চলিক তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা থাকা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এখনো ২ হাজার ৪২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গত বুধবারের সেই ভয়াবহ দুর্যোগে বাড়িঘর সড়ক ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ধসে পড়া স্থাপনা থেকে মানুষ উদ্ধারে ভারত ও চীনের কাছে বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত সহায়তা চেয়েছে নেপাল।
এস এম/ ২৯ আগস্ট ২০২৬









