মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজ প্রণালিতে টোল চালুর পরিকল্পনা ইরানের: বছরে আয় হতে পারে ১৩৫ বিলিয়ন ডলার

তেহরান, ৯ আগস্ট – ইরানের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত টোল বা ফি আদায়ের একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে দেশটি। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারে।

মার্কিন থিঙ্কট্যাংক এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে প্রতি বছর প্রায় ১৩৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত নিট মুনাফা অর্জন করতে পারে তেহরান। এই বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আয় হলে ইরান বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং পশ্চিমা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বাৎসরিক মুনাফাকেও ছাড়িয়ে যাবে।

এমনকি সৌদি আরবের তেল জায়ান্ট আরামকোর আয়কেও এই টোল ব্যবস্থার মাধ্যমে টপকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ইরানের। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী কোনো সংঘাত এড়াতে ওয়াশিংটন তেহরানের সাথে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

এরই অংশ হিসেবে গত জুন মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট সময় পর ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে সামুদ্রিক সেবা নিয়ে আলোচনার সুযোগ পাবে ইরান। মূলত এই সুযোগ ব্যবহার করেই ইরান টোল আদায়ের পথ প্রশস্ত করছে।

বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই সংবেদনশীল রুটে টোল বসানো হলে তেলের দাম ও সামুদ্রিক বিমার খরচ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তেলের দাম বাড়লে ইরানের সংগৃহীত ফি এর পরিমাণও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।

টোল আদায়ের পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও সমঝোতা স্মারকে রয়েছে। এছাড়া পশ্চিমা দেশগুলোতে আটকে থাকা ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এই বিষয়গুলো কার্যকর হলে ইরানের অর্থনীতি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এস এম/ ৯ আগস্ট ২০২৬


Back to top button