ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন মার্কিন জেনারেল কেইন

ওয়াশিংটন, ৮ আগস্ট – ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ আরও তীব্র করার যেসব সামরিক বিকল্প বিবেচনা করছেন, সেগুলোর অনেকগুলোই হিতে বিপরীত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
মূলত শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করেন এই জেনারেল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই তথ্য জানিয়েছে। একটি সূত্র সরাসরি জানিয়েছে যে কেইন এখন যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন।
জেনারেল কেইন একা নন, যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সংঘাত আরও বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের সামরিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, তা নিয়ে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। এসব কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, কেইন তাদের সঙ্গে সামরিক বিকল্পগুলোর সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেছেন। সম্প্রতি কেইন ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। এর উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের আগে সবাইকে একই অবস্থানে রাখা।
সূত্রমতে, এসব আলোচনায় কেইন বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা সামরিক বিকল্পগুলোর কিছু গুরুতর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, তিনি আসলে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছেন। তবে কেইন ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কও সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করছেন।
ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর পক্ষে নন। তার ধারণা, ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে তেহরানকে তার শর্তে একটি চুক্তিতে বাধ্য করা সম্ভব। কিন্তু কেইনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে মনে করছেন, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে সেই লক্ষ্য অর্জন করা বাস্তবসম্মত নয়।
যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর ট্রাম্প প্রশাসনের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সংঘাতটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে। জেনারেল কেইন গত মাসের শেষ দিকে আইনপ্রণেতাদের এক প্রকাশ্য শুনানিতেও বলেছিলেন যে বিমান শক্তির সীমাবদ্ধতা আছে।
এই বাস্তবতার কারণেই জুলাইয়ের শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় হামলার পরিকল্পনা নিয়ে তিনি সতর্ক ছিলেন। যুদ্ধ আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়াও একটি বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেনারেল কেইন ছাড়াও উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তারা এ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় হামলা চালায় এবং তেহরান পাল্টা আঘাত করে, তবে সেই হামলা ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নাও থাকতে পারে। ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এতে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না বরং পাল্টা হামলা চালাতে পারে।
ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেই কেইন এসব নেতিবাচক দিক তুলে ধরছেন। বর্তমানে মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে এমন একটি পথ খুঁজে বের করা যা ট্রাম্পকে একটি প্রতীকী বিজয় দাবি করার সুযোগ দেয় এবং শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের দিকে নিয়ে যায়।
এস এম/ ৮ আগস্ট ২০২৬









