‘জুলাই শহীদের রক্তঋণ পরিশোধে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার বিকল্প নেই’: ডা. শফিকুর রহমান

ঢাকা, ৪ আগস্ট – আগামীকাল ৫ই অগাস্ট ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন ছিল না, এটি ছিল জালিম শাসকগোষ্ঠীর শৃঙ্খল ভেঙে একটি বৈষম্যমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার অভূতপূর্ব জাতীয় বিপ্লব।
তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন আন্দোলনে জীবনদানকারী শহীদদের এবং উল্লেখ করেন যে, শহীদের আত্মত্যাগের রক্তঋণ পরিশোধ করতেই আমাদের একটি ইনসাফপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যেতে হবে।
বাণীতে আমিরে জামায়াত জুলাই অভ্যুত্থানের সেই দিনগুলোর ত্যাগের চিত্র তুলে ধরে বলেন, “ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার নির্দেশে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির একাংশের নির্বিচারে চালানো গুলিতে প্রায় দেড় হাজার মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০ হাজারেরও বেশি নাগরিক, এবং বহু তরুণ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ বীর শহীদদের ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের কাছে এই জাতি চিরঋণী।”
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার বীরত্বপূর্ণ অভ্যুত্থানের মুখে সাড়ে ১৬ বছরের একনায়কতন্ত্র ও দেশি-বিদেশি আধিপত্যবাদের অবসান ঘটিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলবলসহ ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
বিরোধীদলীয় নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে বৈষম্যহীন ও সুশাসনভিত্তিক গণতান্ত্রিক সমাজের স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত দিয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি পূরণ হয়নি। “অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, একটি বিশেষ মহলের কারণে আমরা শহীদদের সেই প্রত্যাশা আজও পুরোপুরি পূরণ করতে পারিনি। শহীদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সেজন্য আমাদের লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।”
অতীতের সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সামাজিক ন্যায়বিচার রক্ষায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এনএন/ ৪ আগস্ট ২০২৬









