পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রাম ধ্বংসের উসকানি দিচ্ছেন ইসরায়েলি মন্ত্রীরা

তেল আবিব, ২৭ জুলাই – ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন ফিলিস্তিনি জনপদ লক্ষ্য করে চরম প্রতিশোধমূলক এবং ধ্বংসাত্মক হামলার উসকানি দিচ্ছেন ইসরায়েলি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ টেল, ইরাক বুরিন এবং বেইত ফুরিক নামের গ্রামগুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস করার জন্য প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি এই জনপদগুলোতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে সেগুলোকে নাবলুস ও তুলকারমের শরণার্থী শিবিরের মতো বিরানভূমিতে পরিণত করার প্রস্তাব দেন। গত শুক্রবার এক বক্তব্যে স্মোট্রিচ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আওতা থেকে এলাকাটিকে পুরোপুরি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন। অর্থমন্ত্রীর এমন কট্টর অবস্থান ও উসকানিমূলক বক্তব্যের পর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও উগ্রপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের সহিংস কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
উগ্রপন্থী এই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীরের কণ্ঠেও। তিনি দাবি করেছেন, ইহুদি হত্যার বদলা হিসেবে শত্রুপক্ষকে তাদের ভূমি ও ঘরবাড়ি হারাতে হবে। তিনি গাজা উপত্যকার মতো পশ্চিম তীরেও গোটা ফিলিস্তিনি শহর নিশ্চিহ্ন করার নীতি গ্রহণের তাগিদ দেন।
একই বার্তা দিয়েছেন স্মোট্রিচের রাজনৈতিক দল রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টির সদস্য জভি সুকোট। তিনি এক সাক্ষাৎকারে টেল গ্রামটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছেন। সাম্প্রতিক এই চরম উত্তেজনার সূত্রপাত হয় যখন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পাহারায় সশস্ত্র দখলদাররা টেল গ্রামে হামলা চালায়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, সাইফি পরিবারের এক সদস্য এক সেনার কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে গুলিতে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পরবর্তী সহিংসতায় একই পরিবারের আরও চার সদস্য নিহত হন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য বলছে, ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত নিজস্ব ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৮৭ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে পশ্চিম তীরে প্রায় সাড়ে সাত লাখ ইসরায়েলি দখলদার বাস করছে, যারা আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে নিয়মিত ফিলিস্তিনিদের জমি দখল ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে।
এস এম/ ২৭ জুলাই ২০২৬









