মধ্যপ্রাচ্য

সিরিয়ায় নারীদের স্বশাসিত গ্রাম জিনওয়ার: বৈষম্যমুক্ত এক নতুন জনপদ

দামেস্ক, ১৩ জুলাই – সিরিয়ার উত্তর পূর্বাঞ্চলে মরুভূমির বুকে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী জনপদ যার নাম জিনওয়ার। কুর্দি ভাষায় এর অর্থ নারীদের পরিসর। যুদ্ধ, পারিবারিক সহিংসতা এবং সামাজিক বৈষম্যের শিকার নারীরা মিলে এই গ্রামটি গড়ে তুলেছেন।

কামিশলি শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত এই গ্রামে প্রায় ৩০টি মাটির বাড়ি রয়েছে যেখানে কেবল নারীদেরই স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি রয়েছে। সম্প্রতি ইতালীয় আলোকচিত্রী মাত্তেও ট্রেভিসানের ক্যামেরায় এই শান্ত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামের জীবনযাত্রা উঠে এসেছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে সিরিয়ার এই অঞ্চলে জিনওয়ারের মতো নারী নেতৃত্বাধীন স্বশাসিত এলাকার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এখানে কুর্দি, আরব ও ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের নারীরা সম্মিলিতভাবে নিজেদের স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কৃষি সমবায় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করছেন।

রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে তারা নিজস্ব শক্তিতে এগিয়ে চলেছেন। এই গ্রামে বসবাসকারী ৫৫ বছর বয়সি ওয়েলাত জানান স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর তিনি চরম মানসিক সংকটে ছিলেন। এখন তিনি জিনওয়ারে কুর্দি ভাষার শিক্ষক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি গ্রামের নিরাপত্তা রক্ষীর দায়িত্বও পালন করছেন।

একইভাবে ৫৭ বছর বয়সি নুজিন মিহেমেদ জানান একাকীত্ব ও সামাজিক নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে তিনি এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি গ্রামের বেকারিতে কাজ করছেন। ২৮ বছর বয়সি জেসমিন আলেপ্পো ছেড়ে জার্মানিতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও জিনওয়ারের কথা শুনে এখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তার মতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নারীদের এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিশ্বের জন্য একটি বড় উদাহরণ। জিনওয়ারের পাশাপাশি নারী ও পুরুষ উভয়ের অংশগ্রহণে পরিচালিত জারুডি নামে আরেকটি স্বশাসিত বাগান ও কৃষিভিত্তিক জনপদ গড়ে উঠেছে।

এখানকার সহসভাপতি নেহরীমান জানান ২০১৩ সালের যুদ্ধের পর ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে তারা একটি সফল সমবায় মডেল তৈরি করেছেন। উত্তর পূর্ব সিরিয়ার কুর্দি স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনের আওতায় কোনো সরকারি বা আন্তর্জাতিক তহবিল ছাড়াই এই জনপদগুলো পরিচালিত হচ্ছে। কৃষি, পশুপালন ও নিজস্ব উৎপাদনই তাদের টিকে থাকার প্রধান অবলম্বন।

এস এম/ ১৩ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language