সম্পাদকের পাতা

পিসির মনোনয়ন লড়াইয়ে আলোচনার কেন্দ্রে ডা. তরুন

নজরুল মিন্টো

অন্টারিও প্রদেশের স্কারবরো সাউথওয়েস্ট আসনের আসন্ন প্রাদেশিক উপনির্বাচনকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই অন্টারিও প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টির মনোনয়ন ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ভোটে যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনিই উপনির্বাচনে পিসি পার্টির আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হিসেবে এনডিপি, লিবারেল এবং অন্যান্য দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন। উল্লেখ্য, ডলি বেগম প্রাদেশিক আসন ছেড়ে ফেডারেল রাজনীতিতে যাওয়ার পর এই আসনটি শূন্য হয়।

কনজারভেটিভ পার্টির প্রাদেশিক মনোনয়ন কমিটির অনুমোদনক্রমে তিনজন প্রার্থী এই ভোটে অংশ নিচ্ছেন। তাঁরা হলেন, আয়েশা সরদার, গাজী সিজান এবং ডা. এএসএম তরুন। নামের ইংরেজি বানানের আদ্যাক্ষর অনুযায়ী তালিকাটি সাজানো হয়েছে।

দলীয় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্কারবরো সাউথওয়েস্ট অন্টারিও পিসি কনস্টিটুয়েন্সি অ্যাসোসিয়েশনের যেসব সদস্যের সদস্যপদ ৩ জুলাই ২০২৬ বিকেল ৫টার মধ্যে সক্রিয় ছিল, কেবল তারাই এই মনোনয়ন ভোটে অংশ নিতে পারবেন। ভোটারদের অবশ্যই অনুমোদিত পরিচয়পত্রের মূল কপি সঙ্গে আনতে হবে। মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত ছবি বা ইলেকট্রনিক কপি গ্রহণযোগ্য হবে না।

মনোনয়ন সভা অনুষ্ঠিত হবে স্কারবরোর ৪৬৮ ড্যানফোর্থ রোডে, বার্চমাউন্ট ও ড্যানফোর্থ রোড ইন্টারসেকশনের কাছে। বিকেল ৪টায় প্রার্থীদের বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। রাত ১০টায় ফলাফল ঘোষণার কথা রয়েছে।

স্কারবরো সাউথওয়েস্ট এমন একটি আসন, যেখানে অভিবাসী জনগোষ্ঠী, নতুন প্রজন্মের ভোটার এবং পুরোনো দলীয় আনুগত্য পাশাপাশি কাজ করে। ফলে পিসি পার্টির প্রার্থী নির্বাচন শুধু দলীয় সিদ্ধান্ত নয়; এটি আসন্ন উপনির্বাচনের কৌশল এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে দলের সম্পর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

এই প্রেক্ষাপটে ডা. এএসএম নূরুল্লাহ তরুনের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। তিনি একজন চিকিৎসক ও সংগঠক। ২০২৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনে তিনি কনজারভেটিভ পার্টি অব কানাডার প্রার্থী হিসেবে স্কারবরো সাউথওয়েস্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ১৬ হাজার ৬৬৫ ভোট পান। ওই নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় ভোটার, নির্বাচনী মাঠ এবং এলাকার রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে তাঁর সরাসরি ধারণা রয়েছে।

আয়েশা সরদার ও গাজী সিজানের নাম ব্যালটে থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় তাঁরা এখনো খুব বেশি প্রাধান্য পাননি। আয়েশা সরদার প্যারালিগ্যাল পেশার সঙ্গে যুক্ত, আর গাজী সিজান হিউম্যান রিসোর্স প্রফেশনাল। স্থানীয় পরিসরে তাঁদের পরিচিতি এখনো সীমিত। দৃশ্যমান সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের উপস্থিতিও তেমন নেই। অন্যদিকে সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় উপস্থিতির বিবেচনায় ডা. তরুনের নামই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলাদেশি কানাডিয়ানদের দৃষ্টিতে এই মনোনয়ন ভোটের একটি আলাদা তাৎপর্য আছে। কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে তাঁদের উপস্থিতি বাড়ছে, কিন্তু সেই উপস্থিতিকে নির্বাচনী সাফল্যে রূপান্তর করা এখনো সহজ কাজ নয়। এখানে শুধু কমিউনিটির সমর্থন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পেশাগত গ্রহণযোগ্যতা, স্থানীয় পরিচিতি এবং বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে সংযোগ তৈরির ক্ষমতা। ডা. তরুনের ক্ষেত্রে এই উপাদানগুলো একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে বলে অনেকেই তাঁকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। তাঁদের দৃষ্টিতে বিষয়টি শুধু মনোনয়ন পাওয়ার প্রশ্ন নয়; আসন্ন উপনির্বাচনে পিসি প্রার্থী কতটা কার্যকরভাবে লড়াই করতে পারবেন, সেটিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

সময়ও এখানে বড় বিষয়। উপনির্বাচনের রিট ৩ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে জারি করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, রিট জারির পর ৩৬ দিনের বেশি দেরি না করে বৃহস্পতিবারের মধ্যে ভোটের দিন নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ পিসি পার্টি আজ যাঁকে প্রার্থী করবে, তাঁকে স্বল্প সময়ের মধ্যেই উপনির্বাচনের মূল লড়াইয়ে নামতে হবে।

তবে আজকের মনোনয়ন ভোটের গুরুত্ব শুধু একজন ব্যক্তিকে ঘিরে নয়। এটি পিসি পার্টির জন্যও একটি কৌশলগত মুহূর্ত। এনডিপি ইতিমধ্যে ফাতিমা শাবানকে প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে। লিবারেলরাও আহসানুল হাফিজকে নিয়ে মাঠে আছে। এই দুই দলের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পর পিসি পার্টির সামনে এমন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে দলকে এমন একজন প্রার্থী বেছে নিতে হবে, যিনি একদিকে দলীয় ভোট ধরে রাখতে পারবেন, অন্যদিকে জাতিগত ও অভিবাসী ভোটার, পেশাজীবী শ্রেণি এবং স্থানীয় সমাজের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারবেন।

সিদ্ধান্ত এখন ভোটারদের হাতে। তাঁদের ভোটেই ঠিক হবে, আসন্ন উপনির্বাচনে দলটির পতাকা কে বহন করবেন। তবে আজকের ভোট শুধু একটি নাম ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি দেখাবে, স্কারবরো সাউথওয়েস্টে পিসি পার্টি কোন ধরনের নেতৃত্বকে সামনে আনতে চায়।

ভোটকেন্দ্রে আজ যখন ভোটাররা পরিচয়পত্র হাতে লাইনে দাঁড়াবেন, তখন সেটি শুধু একটি দলীয় ভোটের দৃশ্য হবে না। সেটি হবে কানাডার বাংলাদেশি সমাজের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। স্কারবরো সাউথওয়েস্টের এই মনোনয়ন ভোট একটি বিষয় স্পষ্ট করছে: মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিরা এখন আর শুধু দর্শক হয়ে থাকতে চান না, অংশগ্রহণের জায়গাতেও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।

এনএন/ ০৯ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language