যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরোক্ষ আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির দাবি কাতারের

দোহা, ২ জুলাই – উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলের মধ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পরোক্ষ বৈঠকগুলোতে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দোহায় উভয় দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক আলোচনা সম্পন্ন করেছে। লেক লুসার্ন সম্মেলনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন বিষয়ে এই অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, উভয় পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইয়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনেই নিহত হওয়ার পর বর্তমানে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর মূল মনোযোগ তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের ওপর নিবদ্ধ রয়েছে। তেহরানের প্রধান আলোচক ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ দেশের নাগরিকদের এই শোক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ইরানি সেনাবাহিনী শোকমিছিল চলাকালে কোনো ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে এই পরোক্ষ আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছে।
দোহা বৈঠকে আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করা না হলেও ইরানি কর্মকর্তাদের মতে তারা অবরুদ্ধ সম্পদ বা অর্থ ছাড়ের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের পরিকল্পনা থেকে ইরানকে বিরত রাখার চেষ্টা করছেন।
আপাতত খামেনেইয়ের সমাহিত করার প্রস্তুতির কারণে ইরানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা বিরাজ করছে। শাসকগোষ্ঠী এই বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে তাদের টিকে থাকার সক্ষমতা ও শক্তির বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে।
এস এম/ ২ জুলাই ২০২৬









