মেটার প্ল্যাটফর্মে বিশ্বের বৃহত্তম অবৈধ বন্যপ্রাণী বাজার, অভিযোগ পরিবেশবাদী সংস্থাগুলোর

ওয়াশিংটন, ২৯ জুন – ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে বিশ্বের বৃহত্তম অবৈধ বন্যপ্রাণী কেনাবেচার বাজার পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে মেটা কেবল বন্যপ্রাণী পাচার রোধে ব্যর্থই হচ্ছে না বরং বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অবৈধ কারবারকে উৎসাহিত করছে। তথ্য অনুযায়ী গত দুই বছরে মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বন্যপ্রাণী ও বন্যপ্রাণীজাত পণ্যের ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি বিজ্ঞাপন শনাক্ত করা হয়েছে।
যদিও মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মে বিপন্ন প্রাণী কেনাবেচা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে তবে বাস্তবে এই নীতিমালা কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাদের চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রকাশ্যেই বন্যপ্রাণী ও প্রাণীজাত পণ্যের বেচাকেনা চলছে।
তদন্তকারীরা জানান এখানে পোষা প্রাণী হিসেবে শিম্পাঞ্জি এবং ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে গণ্ডারের শিং বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। এমনকি খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য বিপন্ন বনরুই বিক্রির পোস্টও দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে বিক্রেতারা দাম গোপন রেখে আগ্রহীদের ব্যক্তিগত বার্তায় যোগাযোগের আহ্বান জানান।
বন্যপ্রাণী পাচারবিষয়ক স্বাধীন তদন্তকারী ড্যানিয়েল স্টাইলস জানান মেটার কন্টেন্ট মনিটাইজেশন ব্যবস্থা এই অপরাধকে আরও লাভজনক করে তুলছে। কারণ অ্যাকাউন্টে মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়লে আয়ের সুযোগও বৃদ্ধি পায়। তদন্তে লাওসভিত্তিক একটি অ্যাকাউন্টে বনরুই শিকারের ভিডিও দেখিয়ে অর্থ উপার্জনের প্রমাণ মিলেছে।
এছাড়া মেটার অ্যালগরিদম এই অবৈধ বাণিজ্য বিস্তারে ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো ব্যবহারকারী একবার বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত পোস্টে প্রবেশ করলে তার ফিডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই ধরনের অন্যান্য পোস্ট দেখানো শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট তথ্য বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে ২০ হাজারের বেশি বিজ্ঞাপন শনাক্ত করে মেটাকে রিপোর্ট করা হলেও অধিকাংশ অ্যাকাউন্ট ও গ্রুপ এখনো সচল রয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীদের মতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই অবৈধ ব্যবসা থেকে মুনাফা অর্জন বন্ধ না করলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।
এস এম/ ২৯ জুন ২০২৬









