শিশু অধিকার লঙ্ঘনে টানা তৃতীয়বার জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী

তেল আবিব, ১৮ জুন – শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে টানা তৃতীয় বছরের মতো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে ইসরায়েল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০২৫ সালের তথ্যভিত্তিক এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে শিশুদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা এবার নজিরবিহীন।
জাতিসংঘ এ বছর ২৪ হাজার ১৭৪ জন শিশুর বিরুদ্ধে মোট ৩৮ হাজার ৫৫৮টি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা যাচাই করেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ হাজার ৪৯৩ জন ছেলে এবং ৭ হাজার ৯৯০ জন মেয়ে শিশু রয়েছে। বাকিদের লিঙ্গ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
জাতিসংঘের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে গত তিন দশকের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সরকারি বাহিনীগুলো শিশু নির্যাতনের প্রধান পক্ষ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই তালিকায় সবার উপরে রয়েছে ইসরায়েল এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে আগের বছরের তুলনায় শিশু নিহতের হার ৩৪ শতাংশ এবং আহতের হার ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেবল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেই ১২ হাজার ৪৪৫টি লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া কঙ্গো, নাইজেরিয়া, মিয়ানমার এবং সোমালিয়াতেও ব্যাপক হারে শিশু অধিকার লঙ্ঘনের চিত্র উঠে এসেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে গাজা উপত্যকায় চলমান নৃশংসতা এবং পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতাকে তিনি স্তম্ভিত করার মতো ঘটনা বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন যে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অপরাধীদের জবাবদিহির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এস এম/ ১৮ জুন ২০২৬









