মধ্যপ্রাচ্য

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা: ১৪ দফা চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ

তেহরান, ১৭ জুন – তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। গত রবিবার দুই পক্ষ চূড়ান্ত সমঝোতায় উপনীত হয়েছে।

আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই সমঝোতা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী,

  • প্রস্তাবিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে যুদ্ধবিরতি,
  • হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা,
  • ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং
  • পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

সমঝোতায় দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক আচরণ বন্ধ করতে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে সম্মত হয়েছে। নথি অনুযায়ী, সমঝোতা স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে।

বিনিময়ে ইরান পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ উন্মুক্ত করবে। এছাড়া ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রফতানির সুযোগ পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচির শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ইরান প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি উন্নয়ন তহবিলের নাগাল পেতে পারে।

১৪ দফার অন্যতম বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে,

  • একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের হামলা বা শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকা।
  • চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পক্ষ থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো ধাপে ধাপে তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
  • ইরান পুনরায় ঘোষণা করেছে যে তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।
  • তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত পরবর্তী চূড়ান্ত চুক্তির জন্য রাখা হয়েছে।

যদিও ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম খসড়া নথির কিছু তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তবে আন্তর্জাতিক মহল এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

এস এম/ ১৭ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language