মধ্যপ্রাচ্য

ইয়েমেনে হুতির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৮ সরকারি সেনা নিহত

সানা, ৭ আগস্ট – ইয়েমেনে সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনীর অবস্থানে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৫৮ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের এই হামলাকে গত চার বছরের মধ্যে দেশটির গৃহযুদ্ধের অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। হুতির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সমর্থনে সরকারি বাহিনীর সামরিক প্রস্তুতির পাল্টা জবাব হিসেবে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এই হামলায় ৫৮ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। এর আগে প্রাথমিক তথ্যে ৩৮ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। এই ঘটনার পর ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সঠিক সময়ে এবং যথাযথ স্থানে এই হামলার কড়া জবাব দেবে।

একজন সামরিক কর্মকর্তার তথ্যমতে, বৃহস্পতিবারের এই আক্রমণ ২০২২ সালের পর সরকারি বাহিনীর ওপর চালানো সবচেয়ে বড় হামলা। মধ্য ইয়েমেনের মারিব প্রদেশের আল রুওয়াইক এলাকায় একটি সামরিক ঘাঁটি এবং সৌদি সীমান্তের কাছে হাদরামাউত প্রদেশের আল আবর ও আল ওয়াদিয়াহ অঞ্চলের কয়েকটি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলাগুলো চালানো হয়।

এর মধ্যে মারিবের একটি ঘাঁটিতে সকালের সামরিক মহড়া চলাকালীন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে অন্তত ৪৫ জন হতাহত হন। ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত উত্তেজনার সঙ্গে একীভূত হয়েছে। গত মাস থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দেশটিতে বড় ধরনের সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। তবে সম্প্রতি আবারও সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে পক্ষগুলো। ২০১৪ সাল থেকে চলা এই গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং দেশটিতে ভয়াবহ এক মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

এস এম/ ৭ আগস্ট ২০২৬


Back to top button