পশ্চিমবঙ্গ

তৃণমূলের ২০ সাংসদের এনসিপিআইতে যোগদান: টালমাটাল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি

কলকাতা, ১৬ জুন – বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি বা এনসিপি গঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটি ৬টি আসনে জয়লাভ করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিচিত হয়ে ওঠে।

তবে ভারতেও যে এনসিপি বা এনসিপিআই নামে একটি দল আছে, তা গত রবিবার সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষের কাছে অজানা ছিল। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন একযোগে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল যখন তীব্র, ঠিক তখনই এই গণ দলবদলের ঘটনা ঘটল। ভারতের সংবিধানের দশম তফশিলে দলত্যাগ বিরোধী কঠোর আইন থাকলেও কোনো দলের দুই তৃতীয়াংশ সদস্য একীভূত হলে সদস্যপদ বহাল থাকে।

তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ একাট্টা হওয়ায় তারা এই আইনি সুরক্ষা ব্যবহার করে নিজেদের সদস্যপদ রক্ষা করছেন। কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পার্থ ভৌমিকের মতো প্রবীণ নেতারা এই দলবদলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিয়ে তারা ত্রিপুরা ভিত্তিক এনসিপিআইকে বেছে নিয়েছেন মূলত নিজেদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বজায় রাখা এবং তৃণমূলের মূল নিয়ন্ত্রণ ও দলীয় প্রতীক দাবি করার জন্য।

তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই দলবদলকে অবৈধ দাবি করে স্পিকারের কাছে চিঠি দিলেও এনডিএ জোটের সমর্থনে বিদ্রোহী অংশটি এখন শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই নাটকীয় পরিবর্তনের ফলে আগামী দিনগুলোতে ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ লড়াই এবং আইনি বিতর্ক আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এনসিপিআই মূলত একটি ছোট দল হলেও বর্তমানে লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় বিরোধী অংশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

এস এম/ ১৬ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language