দক্ষিণ এশিয়া

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১৫

ইসলামাবাদ, ১২ জুন – পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সংরক্ষিত আসন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ৪ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

আঞ্চলিক আইনসভায় ১২টি সংরক্ষিত আসনকে কেন্দ্র করে এই সংকটের সূত্রপাত। এই আসনগুলো মূলত ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে কয়েক দশক আগে আসা শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্থানীয় অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আসছেন।

বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি নামক বিভিন্ন সংগঠনের একটি মোর্চা। তবে কর্তৃপক্ষ এই জোটের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সহিংসতার অভিযোগ এনে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সংগঠনের নেতাদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে।

শত বাধা ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জেএএসি এর আহ্বানে হাজার হাজার মানুষ মুজাফফরাবাদ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

বিক্ষোভকারীদের দাবি যারা বর্তমানে এই অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না তাদের জন্য আইনসভার এক চতুর্থাংশ আসন বরাদ্দ রাখা অযৌক্তিক। বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী রাওয়ালাকোট শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান করছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুরো এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুজাফফরাবাদ ও রাওয়ালাকোটে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে মানবাধিকারের চরম অবনতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ও গণগ্রেপ্তারের সমালোচনাও করেছে সংস্থাটি।

এরই মধ্যে গত বুধবার মুজাফফরাবাদে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি এমআই ১৭ হেলিকপ্টার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা ২২ জন আরোহীর সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে গোটা অঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং দোকানপাটসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

এনএন/ ১২ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language