সমুদ্রে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

বেইজিং, ১২ জুন – কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রসারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বালানি ও শক্তির চাহিদা। এই সংকট মোকাবিলায় অভিনব এক পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। সাংহাই উপকূলের গভীর সমুদ্রে দেশটি বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার সফলভাবে চালু করেছে।
প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগকে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাংহাই লিংগাং আন্ডারসি ডেটাসেন্টার ডেমোনস্ট্রেশন প্রজেক্ট নামের এই বিশেষ প্রকল্পটি চলতি বছরের মে মাস থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে।
হাইক্লাউড টেকনোলজি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানির যৌথ ব্যবস্থাপনায় এটি পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে এই কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ধরা হয়েছে ২৪ মেগাওয়াট। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাংহাই উপকূল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০ মিটার নিচে এটি স্থাপন করা হয়েছে।
এই ডেটাসেন্টারের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় নিকটবর্তী উপকূলীয় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। ফলে এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। চীনা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, স্থলভাগের সাধারণ ডেটাসেন্টারের তুলনায় এই কেন্দ্রটি অন্তত ২০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সক্ষম।
সমুদ্রের তলদেশের প্রাকৃতিকভাবে শীতল পরিবেশের কারণে সার্ভার ঠান্ডা রাখতে এখানে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচের প্রয়োজন হয় না। সাধারণত স্থলভাগের কেন্দ্রে কুলিং সিস্টেমেই মোট শক্তির একটি বড় অংশ ব্যয় হয়, যা এখানে সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া এই প্রযুক্তি সুপেয় পানির অপচয় রোধেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে ডেটাসেন্টারগুলোতে পানির চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, যা এই মডেলের মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব। এর আগে মাইক্রোসফট স্কটল্যান্ডের উপকূলে অনুরূপ প্রকল্প নিয়ে পরীক্ষা করলেও চীনই প্রথম একে বাণিজ্যিকভাবে সফল করল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের উন্নয়নে চীন ২০৩০ সাল নাগাদ যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, এটি তারই অংশ। তবে সমুদ্রের তলদেশের বাস্তুসংস্থান ও তাপমাত্রার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে। তবুও সঠিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের জ্বালানি সংকট সমাধানে কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এস এম/ ১২ জুন ২০২৬









