উত্তর আমেরিকা

চীনের এআই চিপ রফতানির ফাঁকফোকর বন্ধে কঠোর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটন, ১ জুন – চীনের কাছে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপ রফতানির পথ আরও সংকুচিত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশের শাখাগুলোকেও এখন থেকে উন্নত চিপ রফতানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকতে হবে।

মূলত বাণিজ্যনীতি ও রফতানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিদ্যমান ফাঁকফোকর বন্ধ করতেই এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ সম্প্রতি এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, উন্নত এআই চিপ রফতানির লাইসেন্সিং শর্ত এখন থেকে চীনের সব মূল কোম্পানি এবং তাদের অধীনস্থ বিদেশের সব শাখার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

এর মাধ্যমে কোনো চীনা প্রতিষ্ঠান অন্য কোনো দেশের ঠিকানা ব্যবহার করে উন্নত মার্কিন প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে পারবে না। বাণিজ্য বিভাগের অধীন ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি বা বিআইএস জানিয়েছে, পূর্ববর্তী প্রশাসনের কিছু প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো পরিবর্তন করা হলেও রফতানি লাইসেন্সিং শর্তাবলি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাজারে বিদ্যমান বিভ্রান্তি দূর করতেই এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর আগে জো বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদের শেষ দিকে একটি বৈশ্বিক লাইসেন্সিং ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছিল যার লক্ষ্য ছিল মিত্র দেশগুলোর বাইরে উন্নত চিপের প্রবেশাধিকার সীমিত করা।

তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক চাপের অজুহাতে গত মে মাসে সেই কাঠামো বাতিল করেছিল। কিন্তু বিআইএসের নতুন এই ব্যাখ্যার ফলে এটি স্পষ্ট হলো যে ট্রাম্প প্রশাসন বিদ্যমান নীতিমালায় কোনো ছাড় দিতে ইচ্ছুক নয়।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া জানিয়েছে যে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ইতোমধ্যেই এই নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যদিকে এএমডি, ইন্টেল এবং টিএসএমসির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্র কর্মকর্তাদের মতে, এই নির্দেশনার ফলে চীনা সদর দফতরভিত্তিক কোম্পানির বিদেশি শাখাগুলোর জন্য এনভিডিয়ার ব্ল্যাকওয়েল সিরিজের মতো শক্তিশালী চিপ সংগ্রহ করা এখন থেকে অবৈধ হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে এই নতুন কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

এস এম/ ১ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language