মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরমাণু চুক্তিতে প্রাধান্য পাচ্ছে উভয় পক্ষের জয়ী হওয়ার কৌশল

তেহরান, ৩১ মে – যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তির রূপরেখা মূলত আগের কাঠামোতেই বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন ভূরাজনীতি বিশ্লেষক মার্কো ভিনচেনজিনো। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন যে দুই দেশের আলোচনায় এখনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তদারকি প্রক্রিয়া এবং সময়সীমার মতো পুরনো বিষয়গুলোই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তার মতে,

যেকোনো সমঝোতায় কিছুটা অস্পষ্টতা থাকা স্বাভাবিক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি ইরানকে ২০১৫ সালের জেসিপিওএ চুক্তির চেয়েও কঠিন শর্তে রাজি করিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানও দাবি করবে যে তারা নিজেদের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দেয়নি।

কার্যত এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হবে যেখানে উভয় পক্ষই আলোচনার টেবিল থেকে নিজেদের বিজয়ী দাবি করতে পারবে। আর এটাই চুক্তি হওয়ার প্রধান শর্ত হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মুডিজ অ্যানালিটিক্সের তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে জ্বালানি সংশ্লিষ্ট ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারকে গড়ে অতিরিক্ত ৪৪৭ দশমিক ১৯ ডলার খরচ করতে হয়েছে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং বিমান ভাড়া বাড়ার ফলে গত তিন মাসে মার্কিন ভোক্তাদের মোট অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন যে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই আর্থিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে। মুডিজের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডির মতে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে ভোক্তারা ব্যয় কমাতে বাধ্য হবেন যা দুর্বল অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে যে বর্তমান জ্বালানি মূল্য অব্যাহত থাকলে যুদ্ধের এক বছরের মধ্যে পরিবারপ্রতি অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ২ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।

এস এম/ ৩১ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language