বর্ণবাদের অভিযোগ অস্বীকার ইলন মাস্কের: সন্তানদের ভারতীয় সংযোগের উদাহরণ

ওয়াশিংটন, ২৫ জুলাই – বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক তার বিরুদ্ধে ওঠা বর্ণবাদের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের উদাহরণ টেনে এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।
মাস্ক বলেন, তাকে বর্ণবাদী হিসেবে অভিহিত করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। সাক্ষাৎকারে মাস্ক জানান যে তার সঙ্গী শিভন জিলিস অর্ধেক ভারতীয় এবং তাদের চার সন্তান রয়েছে। তিনি গর্বের সাথে উল্লেখ করেন যে তাদের এক সন্তানের নাম রাখা হয়েছে বিখ্যাত ভারতীয় বংশোদ্ভূত নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখরের সম্মানে।
মাস্ক ও জিলিসের যমজ সন্তানদের একজনের মধ্যনাম রাখা হয়েছে ‘শেখর’। নিজের প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন যে তার কোম্পানির শীর্ষ পদগুলোতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ কাজ করছেন এবং সেখানে বর্ণবাদের কোনো অস্তিত্ব তিনি দেখেন না।
সম্প্রতি নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের চলচ্চিত্র দ্য ওডিসি-র কাস্টিং নিয়ে সমালোচনা করে মাস্ক বিতর্কের মুখে পড়েন। সিনেমাটিতে হেলেন চরিত্রে কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী লুপিটা ইয়ংওকে নেওয়াকে তিনি ঐতিহাসিকভাবে ভুল বলে দাবি করেন। মাস্কের মতে, অস্কার পাওয়ার আশায় নোলান জোর করে এই পরিবর্তন এনেছেন।
এই বিতর্কের জেরে কেউ কেউ মাস্ককে বর্ণবাদী হিসেবে অভিহিত করলে তিনি পাল্টা নোলানকে শ্বেতাঙ্গ বিদ্বেষী হিসেবে আখ্যা দেন। মাস্ক আরও ঘোষণা দিয়েছেন যে তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুল গ্রক ইমাজিন ব্যবহার করে তিনি এই বছরের শেষ দিকে দ্য ওডিসির একটি ঐতিহাসিকভাবে সঠিক সংস্করণ তৈরি করবেন।
সাক্ষাৎকারে তাকে মুসলিম বিদ্বেষী কি না জিজ্ঞেস করা হলে তিনি সরাসরি উত্তর দেননি। তবে তিনি পশ্চিমা সংস্কৃতির পরিপন্থী চিন্তা-ভাবনা নিয়ে আসা মানুষের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন যে তিনি ধর্ষণ ও খুনের বিরুদ্ধে এবং পশ্চিমা বিশ্বের প্রচলিত আইন ও নিয়ম ভঙ্গ করার বিরোধী।
উল্লেখ্য, স্পেসএক্সের শেয়ারের দামের উত্থান পতনের মাঝে মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিওনিয়ার হওয়ার রেকর্ড গড়লেও বর্তমানে তার সম্পদ ট্রিলিয়নের নিচেই অবস্থান করছে।
এস এম/ ২৫ জুলাই ২০২৬









