চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের শতভাগ পোশাক কারখানায় বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ সম্পন্ন

চট্টগ্রাম, ২৭ মে – প্রতিবছর ঈদ উৎসবের আগে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বেতন ও বোনাসের দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ এবং সড়ক অবরোধের মতো ঘটনা ঘটলেও এবার চট্টগ্রামে ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে।

জেলা প্রশাসনের কার্যকর নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে চট্টগ্রামের শতভাগ পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই শিল্পাঞ্চলে এবারের ঈদের আগে উৎসবের আমেজ এবং স্বস্তির পরিবেশ বিরাজ করছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে জেলা পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সাফল্য এসেছে। জেলা প্রশাসক জানান যে এবার চট্টগ্রামে বেতন-বোনাস নিশ্চিতে বড় কোনো সমস্যা হয়নি।

এমনকি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ১১টি পোশাক কারখানাতেও ইতিমধ্যে শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে শ্রমিকদের ঘাম শুকানোর আগেই তাদের পাওনা পরিশোধ করা নৈতিক দায়িত্ব এবং মালিকপক্ষকে এই প্রক্রিয়ায় সব ধরনের প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ঈদকে সামনে রেখে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিবিড় নজরদারি চালানো হয়েছে। নিয়মিত সমন্বয় সভা, ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রণয়ন এবং মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও গুজব প্রতিরোধ ও সম্ভাব্য অসন্তোষ মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

গত ঈদুল ফিতরেও জেলা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের কারণে একটি কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও অগ্রিম প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিকেএমইএর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ শামসুল আজম বলেন যে জেলা প্রশাসকের কঠোর মনিটরিং এবং মালিকদের সদিচ্ছার কারণে এবার দ্রুত বেতন-বোনাস পরিশোধ সম্ভব হয়েছে।

এছাড়া কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মালিকদের আগে থেকেই কাউন্সেলিং করা হয়েছিল। বিজিএমইএ নেতারা জানিয়েছেন যে সরকারের পক্ষ থেকে রপ্তানি খাতের ইনসেনটিভ সময়মতো ছাড় করায় এবং ব্যাংকিং জটিলতা নিরসনে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ায় মালিকদের পক্ষে পাওনা পরিশোধ করা সহজ হয়েছে। চট্টগ্রামের এই সমন্বিত মডেল দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এস এম/ ২৭ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language