দৌলতদিয়া ঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল, বৃষ্টির কবলে পড়ে যাত্রী ভোগান্তি

রাজবাড়ী, ২৬ মে – আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ঘরমুখো মানুষ ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঘাট এলাকায় যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়,
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরিতেই ছিল সাধারণ যাত্রী ও ব্যক্তিগত যানবাহনের উপচে পড়া ভিড়। যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের আধিক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে ঘাটের ব্যবস্থাপনা তুলনামূলক ভালো থাকায় বড় ধরনের কোনো যানজট বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি।
প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে যাত্রীরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও বৃষ্টির কারণে তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ঈদযাত্রায় রাস্তায় তেমন বড় কোনো সমস্যা না হলেও দৌলতদিয়া ঘাটে এসে বৃষ্টির কবলে পড়ে বিড়ম্বনা বেড়েছে।
পর্যাপ্ত যাত্রী ছাউনি না থাকায় অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিজে একাকার হয়ে যান। কুষ্টিয়াগামী যাত্রী আকরাম খান জানান, এবারের যাত্রা তুলনামূলক আরামদায়ক হলেও হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ায় বিপত্তি ঘটেছে।
এদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে ঘাট কর্তৃপক্ষ। এতে দৌলতদিয়া প্রান্তে পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের জট তৈরি হয়। বৃষ্টির মধ্যে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের কষ্ট ছিল চরমে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সালাহ উদ্দিন জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে ১৬টি ফেরি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে মাইকিং করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।
দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ঘাটে দায়িত্বরত নৌপুলিশের এসআই আবুজর গিফারি বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কে যাত্রীদের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে যাতে তারা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাস থেকে নেমে ফেরিতে ওঠার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এস এম/ ২৬ মে ২০২৬









