নৌপ্রতিমন্ত্রীর ঝটিকা অভিযান: স্পটেই মিলল দুর্নীতির প্রমাণ, ঠিকাদারকে কড়া শাস্তি

মানিকগঞ্জ, ২৫ মে – ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের পকেট কাটলেই আর রক্ষা নেই—এমনই এক কড়া বার্তা দিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাটুরিয়া ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট এলাকার ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি সশরীরে পরিদর্শনকালে হাতেনাতে অনিয়মের প্রমাণ পান তিনি। লোকাল গাড়ির যাত্রীদের কাছ থেকে মাত্র ১০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা মিলতেই স্পটেই সংশ্লিষ্ট কালেক্টর ঠিকাদারকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ঈদযাত্রীদের কাছ থেকে কিছু কিছু জায়গায় অতিরিক্ত ১০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এটি হয়তো অনেকের কাছে ছোটখাটো বিষয় মনে হতে পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এই ছোটখাটো বিষয়গুলোও আমাদের প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
সোমবার দুপুরে প্রতিমন্ত্রী পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। সেখানে সাধারণ ও লোকাল গাড়ির যাত্রীদের সাথে কথা বলার সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর সামনে আসে। ঈদের সুযোগ নিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বাড়তি টাকা নেওয়ার সত্যতা পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ঘাটের টোল বা ভাড়া আদায়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কালেক্টর ঠিকাদারকে অনস্পট জরিমানা করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান ঘাট ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা শুধু অফিসরুমে বসে নেই, একাধিকবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘাট সরেজমিনে পরিদর্শন করছি। কোথাও সামান্যতম অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে। ঘাট এলাকায় যদি কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বা দালালদের দৌরাত্ম্য পাওয়া যায়, তবে কেবল ঠিকাদার নয়, দায়িত্বরত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান কেবল ভাড়ার দিকেই নজর দেননি; তিনি যাত্রীবাহী ফেরিগুলোতে উঠে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন এবং ফেরিতে পরিবেশিত খাবারের মান ও মূল্য তালিকা নিজে পরীক্ষা করে দেখেন।
একই সাথে লঞ্চঘাট পরিদর্শনের সময় চালকদের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা সনদ রয়েছে কি-না এবং লঞ্চগুলোর ফিটনেস সংক্রান্ত আইনি কাগজপত্র ঠিক আছে কি-না, তা একে একে খতিয়ে দেখেন। ফিটনেসবিহীন কোনো নৌযান যেন ঈদের এই মহাসড়কে নামতে না পারে, সে বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ-কে চব্বিশ ঘণ্টা সজাগ থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
নৌপ্রতিমন্ত্রীর এই ঝটিকা অভিযানের সময় পাটুরিয়া ঘাটে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA) এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (BIWTC)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রশাসনের এমন অ্যাকশন-ওরিয়েন্টেড ভূমিকার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটের সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এনএন/ ২৫ মে ২০২৬









