হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট: দেশি গরুর ব্যাপক চাহিদা

হবিগঞ্জ, ২৩ মে – পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ জেলার পশুর হাটগুলোতে কেনাবেচা পুরোদমে জমে উঠেছে। জেলার বিভিন্ন হাট এখন ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পদচারণায় উৎসবমুখর। বিশেষ করে মাঝারি আকারের দেশীয় জাতের গরুর প্রতি ক্রেতাদের বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তবে গত বছরের তুলনায় পশুর দাম কিছুটা বেশি বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি গো খাদ্য এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় পশুর দাম কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে হাটগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে কেনাবেচা করতে পারেন।

সরেজমিনে বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে খামারিরা তাদের লালন পালন করা ছোট বড় বিভিন্ন আকারের গরু হাটে নিয়ে আসছেন। সারিবদ্ধভাবে সাজানো দেশীয় খামারের গরুগুলো সহজেই ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। হাটে ১০ থেকে ১৫ মণ ওজনের বড় গরুও দেখা গেছে যেগুলোর দাম ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে।

তবে সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় বেশি দেখা গেছে ১ থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে থাকা দেশীয় গরুগুলোর সামনে। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে জেলায় প্রায় ১ হাজার ৫০০টি খামারে ৫০ হাজার গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যার মধ্যে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া রয়েছে।

জেলায় এ বছর পশুর চাহিদা প্রায় ৪৬ হাজার যা স্থানীয় খামারিদের মাধ্যমেই পূরণ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শনিবার দুপুরে দিনারপুর জনতার বাজার পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায় কেনাবেচা বেশ তুঙ্গে। ক্রেতা হেলাল উদ্দিন জানান তিনি দুটি ষাঁড় পছন্দ করেছেন এবং দরদাম মেলালে একটি কিনে নেবেন।

আরেক ক্রেতা সজলু মিয়ার মতে গত বছরের ৭০ হাজার টাকার গরুর দাম এবার ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। বিক্রেতা সাব্বির মিয়া জানান অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণেই পশুর দাম কিছুটা বেড়েছে। হাট কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী তোফায়েল আহমেদ জানান ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বাজারে বেচাকেনা আরও বৃদ্ধি পাবে।

হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম নিশ্চিত করেছেন যে হাটে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জালিয়াতি রুখতে পুলিশের একাধিক দল নিরলসভাবে কাজ করছে।

এস এম/ ২৩ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language