কক্সবাজার

কক্সবাজার সৈকতে পুড়ে ছাই ‘প্যাসিফিক বীচ লাউঞ্জ ইকো রিসোর্ট’

কক্সবাজার, ২২ মে – বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা একটি জনপ্রিয় ইকো রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার (২২ মে, ২০২৬) সকালে লাগা এই আগুনে ইকো রিসোর্টটির বেশ কয়েকটি নান্দনিক কটেজ বা ঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। সৈকতের মূল পর্যটন জোন কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টের মাঝামাঝি অবস্থিত ‘প্যাসিফিক বীচ লাউঞ্জ ইকো রিসোর্টে’ এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

সৈকতের বালুকা বেলার একদম কিনারায় অবস্থিত হওয়ায় আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দূর-দূরান্ত থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, যা ওই এলাকায় বেড়াতে আসা সাধারণ পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক তৈরি করে।

স্থানীয় একাধিক আবাসিক হোটেলের কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকাল ১০টার দিকে অকস্মাৎ বেলাভূমির কিনারের প্যাসিফিক বীচ লাউঞ্জ রিসোর্ট থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। সমুদ্রের বাতাসের তীব্রতা বেশি থাকায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে এবং বড় বড় শিখা আকাশে উড়তে থাকে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের টিম। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দোলন আচার্য ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের মাঝামাঝি একটি ইকো রিসোর্টে সকাল ১০টায় আগুন লাগার খবর পাই আমরা। ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। তীব্র বাতাস ও রিসোর্টের ভেতরের দাহ্য পদার্থের কারণে বেগ পেতে হলেও, টানা ২ ঘণ্টার অবিরাম চেষ্টায় আমরা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।”

অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে রিসোর্টের মালিক জাবেদ ইকবাল অত্যন্ত বিপর্যস্ত কণ্ঠে বলেন, “ঠিক কীভাবে আগুন লেগেছে তা আমরা কেউই বলতে পারছি না। কারণ আগুন যখন লাগে, তখন পুরো এলাকায় কোনো বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সুযোগ কম।”

তিনি আরও জানান, আগুনে রিসোর্টের প্রধান ৩টি বিলাসবহুল থাকার ঘর (কটেজ) এবং একটি বড় স্টোর রুম পুড়ে একদম কয়লা হয়ে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতার কারণে পাশে থাকা রিসোর্টের মূল রেস্টুরেন্টটি বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে গেছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘর বা অন্য কোনো উৎস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং আগুন লাগার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। ছুটির দিনের সকালে সৈকত পাড়ের এমন অগ্নিকাণ্ড পর্যটন নগরীতে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এনএন/ ২২ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language