জাতীয়

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন শামা ওবায়েদ

ঢাকা, ২১ মে – জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে বাংলাদেশ মানবতার প্রতি এক গভীর নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত ফ্রাঙ্কোফোন পরিবেশে শান্তিরক্ষা বিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের এই দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতার আদর্শে অটল থেকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। একই সঙ্গে তিনি শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং বর্তমান শান্তিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শামা ওবায়েদ বলেন,

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে স্রেফ একটি দায়িত্ব হিসেবে দেখে না, বরং একে মানবতার সেবায় একটি নৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণ করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অবদানকারী দেশ।

শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের সময় প্রাণ উৎসর্গকারী ১৭৪ জন বাংলাদেশি সদস্যের স্মৃতির প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নারী শান্তিরক্ষীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণকে বাংলাদেশের বিশেষ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়কালে তার অগ্রগতির ফলেই আজ এই অবস্থান তৈরি হয়েছে।

সরকারের বর্তমান সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা সংস্কার ও নারীর ক্ষমতায়ন কার্যক্রম একটি টেকসই শান্তির ভিত্তি রচনা করছে। শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা কর্মসূচি অত্যন্ত কার্যকর বলে তিনি অভিমত দেন।

বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,

আধুনিক শান্তিরক্ষা মিশনে ভুল তথ্য প্রবাহ, ডিজিটাল হয়রানি এবং প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর তিনি জোর দেন। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে বাস্তবসম্মত ম্যান্ডেট, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং সেনা ও পুলিশ প্রেরণকারী দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া বিপসট এর মাধ্যমে উন্নত প্রশিক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিও তিনি ব্যক্ত করেন। মরক্কো ও ফ্রান্স সরকারের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে মরক্কোয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী পরে রাবাতের একটি হোটেলে আয়োজিত গ্লোবাল গ্রোথ কনফারেন্সে ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন ও বৈশ্বিক বিভাজনের প্রভাব নিয়ে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন।

এস এম/ ২১ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language