পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: আদালতে সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ঢাকা, ২০ মে – রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত সোহেল রানা। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
জবানবন্দি প্রদান শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সোহেল রানা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে তা রেকর্ডের আবেদন জানান।
একই সাথে অভিযুক্তের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটকে রাখার জন্য পৃথক আবেদন করা হয়। এর আগে সোহেল রানাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল পুলিশ। আবেদনের প্রেক্ষিতে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে বিকেলে হাজতখানা থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও সোহেল রানা শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৮ মে সোমবার সকালে বাসা থেকে বের হলে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।
পরবর্তীতে দীর্ঘক্ষণ শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতা দেখে স্বজনরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে ভেতর থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে একটি কক্ষে শিশুটির মাথাবিহীন দেহ এবং অন্য একটি কক্ষে বালতির ভেতরে তার মাথা দেখতে পান তারা।
আদালতে করা পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মরদেহ গুম করার অসৎ উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে দেহটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পর জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
এস এম/ ২০ মে ২০২৬









